• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৬ জুলাই, ২০২৪

মাছ কিনতে গিয়ে মারধরের শিকার ব্যবসায়ী

উপজেলা প্রতিনিধি, কবিরহাট: জেলার কবিরহাট উপজেলায় মাছ কিনতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন মো. শহীদ উল্যাহ নামের এক ব্যবসায়ী। শয্যাশায়ী এ ব্যবসায়ী কবিরহাট থানায় অভিযোগ দিলেও ঘটনার সাত দিনেও মামলা নিচ্ছে না পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুলাই) দুপুরে তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও মামলার বিষয়টি গোপন এড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি উভয় পক্ষকে এক সাথে বসে বিষয়টি সমাধান করার পরামর্শ দিয়েছেন। যদি ন্যায় বিচার নিশ্চিত না হয় তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন তিনি।

জানা যায়, গত ২৮ জুন সকালে কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের রামদেবপুর গ্রামের গঙ্গাদিঘির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. শহীদ উল্যাহ এই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আলীম উল্যাহর ছেলে। অভিযুক্ত মেজবাহ উদ্দিন সুজন একই ওয়ার্ডের ছানা উল্যাহর ছেলে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. শহীদ উল্যাহ বলেন, আমি মাছের প্রজেক্টের জন্য ক্রয়কৃত মাছ আনার জন্য ২৮ জুন সকালে গঙ্গাদিঘিতে যাই। মূলত মামুন নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে মাছগুলো ক্রয় করেছি। এসময় আগে থেকেই ওঁৎপেতে থাকা সুজন ও তার সহযোগীরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিয়ে জখম করে। তার সহযোগীরা আমাকে মারধর করে এবং হত্যাচেষ্টা করে। আমার সাথে থাকা সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারপর একটি দোকানে আটকে রেখে আমাকে নির্যাতন করে। আমার পরিবার ও স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে আমি চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি, আজ সাত দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ আমার অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না। আমি একজন ব্যবসায়ী হয়েও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
অভিযুক্ত মেজবাহ উদ্দিন সুজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি তার কাছে টাকা পাই। টাকা না দেয়ায় কথাকাটাকাটি হয়েছে এবং আটকে রেখেছি। হত্যাচেষ্টা বা মারধরের বিষয়টি আপনি তার শরীর দেখলে বুঝতে পারবেন। আমি আপনাকে সরেজমিনে তদন্ত করার অনুরোধ করছি।

মাছ কিনতে যাওয়া মো. মামুন বলেন, আমি শহীদ উল্যাহর কাছে আগেই মাছ বিক্রি করেছি। সুজন আমার সাথে ব্যবসা করে। মাছ কিনার সময় আমি ঘটনাস্থলে আসার আগেই এমন ঘটনা ঘটেছে। আমি আসার পর উভয়কে বুঝিয়েছি। সুজনকে বলেছি প্রয়োজনে আমি টাকা দিবো। তারপরও যেনো শহীদকে ছেড়ে দেয়। সুজন আমার কথা রাখেনি। তারা দুজন আমার আত্মীয় হয়। আমি চেষ্টা করছি বিষয়টা স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করা যায় কিনা।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমি সরেজমিনে একদিন তদন্ত করে এসেছি। ব্যবসায়ী শহীদ উল্যাহর আত্মীয় স্বজনরা বলেছে তারা আদালতে যাবে তাই তদন্ত কার্যক্রম আটকে আছে। শহীদ উল্যাহর সাথে কথা হয়েছে। সে থানায় আসলে বিষয়টির অগ্রগতি হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের দিক থেকে আমরা আন্তরিক।

আরও পড়ুন