
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ী উপজেলার কৌশল্যারবাগ গ্রামে একটি পুকুরের পানি সেচকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রামের একটি পুকুর বন্দোবস্ত নিয়ে কয়েকজন অংশীদার দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। গত ১৭ এপ্রিল রাতে পুকুরের পানি সেচের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে আহত হন আনোয়ার হোসেন ফারুক, তাঁর ভাই সাইফুল ইসলাম সুমন এবং তাঁদের মা কামরুল নাহার। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার পরদিন ১৮ এপ্রিল আনোয়ার হোসেন ফারুক বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
ফারুকের অভিযোগ, মামলার এক আসামি সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তাঁকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে আরেকটি ঘটনার সূত্র ধরে প্রতিপক্ষ আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করে।
আনোয়ার হোসেন ফারুক বলেন, পুকুর সেচের বিষয়টি কেন্দ্র করে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
কিন্তু মামলা হওয়ার পরও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুকুরটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অংশীদারদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর উভয় পক্ষের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে। তারা বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, এলাকাটিতে পূর্বে সংঘটিত একটি ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন আরেকটি ঘটনার তথ্যও আমরা পেয়েছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষের দায়ের করা অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :