
নোয়াখালী আমাদের চেতনার উৎস। আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে দেশ জাতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সাধন করতে পারি। যা ইতোপূর্বে বারংবার প্রমাণিত হয়েছে। কেননা বেলুনে হাওয়া দিলে আকাশে উঠে, ঘুড়ি বাতাস থাকলে উপরে উড়ে কিন্তু পাখি তার নিজস্ব যোগ্যতায় পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে উড়ে বেড়ায়।
তেমনি ভাবে নোয়াখালীর উর্বর মাটিতে জন্ম নেওয়া মানুষগুলো আমাদের জাতি গঠনে ইতিহাসের পাতায় ইতিহাসের পাতায় নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছে। বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে তাদের যোগ্যতার মাপকাঠি এতই উঁচু মানের যাদের কয়েক জনের অবদানের কথা বিনম্র শ্রদ্ধা ও বুকভরা সাহস এবং আনন্দের সহিত উল্লেখ না করলে আমরা আগামী প্রজন্মের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ থাকতে হবে পাশাপাশি ইতিহাসের পাতাও অশ্রুসিক্ত হবে।
যদি ক্ষেত্রবিশেষ কয়েক জনের নাম লিখতে যাই তা হলে লিখতে হয় ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনে শহীদদের মধ্যে সালামের অবদানের কথা। লিখতে হয় বাঙালী জাতির প্রাণের মাঝে সুপ্ত আকাঙ্খা স্বাধীনতার প্রকৃত অংকুর উদ্গমনের সূতিকাগার ১৯৬২’র নিউক্লিয়াসের স্রষ্টা সিরাজুল আলম খান দাদার (সদ্য প্রয়াত) কথা। লিখতে চাই সার্জেন্ট জহুরুল হকের আত্মহুতির স্মৃতি, আ স ম আব্দুর রবের প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে একটি স্বয়ংক্রিয় রাষ্ট্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা আন্দোলনকে যে মাত্রায় এগিয়ে নিয়েছে তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে যদি কখনো স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস রচনা হয়। মুক্তিযুদ্ধের বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের আত্মাহুতি স্বাধীন বাংলার ইতিহাসে অহংকার। চলচ্চিত্র জগতে মেধা, মনন, প্রজ্ঞা ও শৈল্পিক যোগ্যতার পরিসীমা যেমনি অবিস্মরণীয় তেমনি বারংবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৭৫’র পরবর্তী কার্যক্রমে আবদুল মালেক উকিলের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়াত সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এলাকার উন্নয়ন, দলমত নির্বিশেষে আতিথিয়োতাসহ দলমত নির্বিশেষে আঞ্চলিক প্রেমের কথা ভুলে যাওয়া বড়ই কষ্টের। মাহমুদুর রহমান বেলায়েত, খালেদ সাইফুল্লাহ্, জমির আলী, কমরেড তোহা সাহেবের নামও কোন ভাবে ছোট করে দেখার বা লেখার ইচ্ছে নেই।সদ্য বিদায়ী সংসদের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের তিন বারের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে সারা জাতি যখন প্রসংশার সমান্তরালে হিংসায় বিভোর ছিলো তখন সাদা দৃষ্টিতে দেখলে আমাদের শুধু মুখ উজ্জ্বল হয়নি বরং মাথা উঁচু করে কথা বলার সাহস যুগিয়েছে। সাংবাদিক অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতির তালিকা লিখতে গেলে শুরু করা যাবে শেষ করা যায় না। তবে শহীদুল্লাহ কায়সার, নিজাম উদ্দিন আহমেদ শিব সাধন চক্রবর্তী, গিয়াস কামাল চৌধুরী, এবিএম মূসা, মাহাফুজ উল্যাসহ ইকবাল সোবহান চৌধুরীদের নাম না লিখলে কি হয়? আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা প্রফেসর মোঃ হাসেমের গানে স্রোতারা এখনো মাথা নাড়ে এশিয়া মহাদেশে নজরুল সংগীতের অনবদ্য শিল্পী ফেরদৌস আরা’র নাম সম্মানই করে।
প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতাব্দীতে ভিসি তো আনুপাতিক হারে শীর্ষত্বের চূড়ায়। ব্যবসা ক্ষেত্রে সফল ব্যবসায়ীদের নাম উল্লেখ করতে গেলে ডিজিটাল যুগে এতো বেশি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি কার্ডের আগমন হয়েছে কি না জানি না তার পরও পারটেক্স গ্রুপ, সিজান গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, এস এ গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ বেঙ্গল গ্রুপ, গ্লোব গ্রুপ, ইন্ট্রাম্যাক্স গ্রুপ, বিডি গ্রুপ প্রয়াত সফল মেয়র আনিসুল হকের মত ব্যবসায়ীরা তারার মেলায় শুকতারা জ্বলে। এতে অনেকের ঈর্ষা ভরা দৃষ্টিতে আমাদের গর্বও হয়।বাঙ্গালী জাতির আরেক বিরল অর্জন প্ৰথম এভারেস্ট বিজয়ী দুই নারী নিশাত মজুমদার এবং ওয়াসপিয়া নাজনীন নোয়াখাইল্যা নারী সমাজের যেমনি অলংকার বারংবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সদ্য গত জাতীয় সংসদের স্পিকার ড.শিরিন শারমিন চৌধুরী তেমনি নোয়াখালীর অহংকার। জাতীয় অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রবাসীদের ঘাম ঝরানোর কথাতো সকলেরই জানা। সরকারী চাকুরীতে মাধাবীদের প্রতিযোগিতায় সিএসপি অফিসার থেকে শুরু করে সকলস্তরে ছিলো এক সময় জয়জয়কার। কোটার বিড়ম্বনায় পাচার হওয়া মেধায় যা ধীরে ধীরে বিয়োগের খাতায় ।
এতে ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চিহ্নিত স্বাধীনতামুক্ত নোয়াখালী বৈষম্যের শিকার এবং দেশ হারালো মেধা আমরা হলাম অসহায়। নোয়াখালীর দক্ষিণে জেগে উঠা অপার সম্ভাবনার আরেক বাংলাদেশ “নিঝুম দ্বীপ” আমাদের প্রাণ জুড়ানো নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আস্থা। যদিও অদূরদর্শীতা ও দৃষ্টিভঙ্গির হিংসাত্মক সিদ্ধান্ত সৃষ্টি কর্তার এই দানকে ম্লান করেছে রোহিঙ্গা আবাসন বানিয়ে। রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেলে নিঝুম দ্বীপ হবে আমাদের জন্য সৃষ্টির বড় আশীর্বাদ। অবশেষে এটুকু বলতে পারি মৌসুমে একটি খেজুর গাছের দেহাবরণ দৈনিক একটু একটু কাটার পর সূর্যাস্তের পর রাতের আঁধারেও ফোটা ফোটা রস নিঃসরণের মাধ্যমে সকলের লোভনীয় খেজুরের পায়েস আবার ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় গুড়ের তৃপ্তি দান করে থাকে তেমনি নোয়াখালীর প্রত্যেকটি সন্তান জাতির উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশমাতৃকার অকুতোভয় দুঃসাহসী সৈনিকের মতো দৃঢ় প্রত্যয়ে নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ীর পরিচয় দিচ্ছে তা অবিস্মরণীয়।
পরিশেষে বলতে পারি ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালীর সন্তানেরা “হেরে গেলে ঘুরে দাঁড়ায় শেষ নয় শুরু ” এই চেতনায় কিন্তু দেশের উন্নয়নে আমাদের কৃতিসন্তানদের অবদানের তুলনায় তথায় রাষ্ট্রের অর্থনীতির ৩৮ শতাংশের চাকা ঘুরানোর এলাকা নোয়াখালীর উন্নয়নের পরিসর আলোকপাত করতে গেলে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেখতে হবে নচেৎ সীমিতই বলা চলে কেন না, নাই বিমান বন্দর, নাই ভালো উন্নত কোন রেলযোগাযোগ, বহু কষ্টে একক প্রচেষ্টায় সাবেক সেতু সচিব ড. মোহাম্মদ বেলায়েত সাহেবের সহযোগীতায় ফোর লেন সড়ক করিয়েছি বটে দুঃখ এখনো এর বেহাল দশা দেখলে। অনেক সাধানার ফসল একটা নৌ বন্দর কোম্পানিগঞ্জ সোনাগাজী করিয়েছি তাও আজ তিন/চার বছর পতিত অবস্থায় আছে যদিও চেয়েছিলাম গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনের কিন্তু বিধি বাম গভীরতার অজুহাতে কামান চেয়ে পিস্তল পেলাম। প্রয়োজন একটা টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় আগামীর যুগোপযোগী শিক্ষার জন্য কিন্তু দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ক্লান্তিও আসে অনেকে আবার লাভ ক্ষতির হিসাব কষে।
অতীব জরুরী দুইটি ইকোনোমিক জোন স্থাপন করে শিল্প উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনের পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে শিল্পোন্নত অঞ্চলে পরিণত করা, তা হলে নোয়াখালীর শিক্ষিত বেকারদের বিদেশে পাড়ীজমানো ঠেকানোতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে যেমনি তেমনি বেকারত্ব দূরীকরণেও দৃষ্টান্ত হয়ে রাষ্ট্রকাঠামোর উন্নয়ন সাধিত হবে।
নোয়াখালীর উন্নয়নে ১৯২২ সালের নকশা অনুপাতে খাল, বিল, নালা, নর্দমাসহ জলাধারসমূহ দখল মুক্ত করে পানি প্রবাহ অবিচল গতিতে ফিরিয়ে আনলে কোন প্রকারের জলাবদ্ধতা বা বন্যার পানিতে ভাসতে হবে না তাতে তথাকথিত দুর্গতদের সাহায্যের নামে আমার প্রাণ প্রিয় মাতৃভূমির জনগণকে যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি সাহায্য দাতাদের অপরাজনীতির শিকার হতে হবে না।
এমতাবস্থায়, আসুন এক বাক্যে সোচ্চার হই ‘ভিক্ষা চাই না অধিকার চাই, দান চাই না বরাদ্দ চাই এবং যথাযথ বাস্তবায়ন চাই ‘।
তাই পুরাতন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনকল্পে আঞ্চলিক উন্নয়ন সাধনে “নোয়াখালী প্রদেশ চাই “। আমার ট্যাক্সে আমার উন্নয়ন আমাদের রেমিট্যান্সে আমাদের উন্নয়ন। চাই না কারো অযাচিত নিয়ন্ত্রণ।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
আপনার মতামত লিখুন :