
স্টাফ রিপোর্টার : সুবর্ণচর উপজেলায় সরকারি খাস জমি বিক্রির অভিযোগ উঠার পর সেখানে নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় থানার হাট আলিম মাদ্রাসার নামে বন্দোবস্ত নেওয়া ওই খাস জমি সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর হোসেন বিক্রি করে দেন। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের তরফ থেকে আজ ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, থানার হাট আলিম মাদ্রাসার সামনে ও পাশের জায়গায় ভবন নির্মাণকাজ চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভবনগুলো সরকারি খাসজমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি মুদি দোকানের পেছনে গোপনে দালান নির্মাণ করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দোকানের মালিক সোলাইমান ওরফে ‘সোলাইমান ডুবাই ওয়ালা’ দাবি করেন, জায়গাটি মাদ্রাসার এবং তারা সেটি মাদ্রাসা কমিটি থেকে কিনে নিয়েছেন। তবে কত টাকায় কেনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা ও প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলে টাকা নিয়েছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আকবর হোসেন ওরফে ‘আকবর ডুবাই ওয়ালা’।
আকবর হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মাদ্রাসা উন্নয়নের জন্য কিছু টাকা ফান্ডে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন বা অন্য কাউকে ম্যানেজ করার নামে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।”
থানার হাট আলিম মাদ্রাসার অফিস সহকারী বাবুল বলেন, “এটি মাদ্রাসার বন্দোবস্ত জায়গা। আমরা কয়েকজন মিলে কিনেছি।” তবে ক্রয়মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ডাক্তার মামুন সাহেব জানেন,” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি দাবি করেন, জায়গাটি মাদ্রাসার নয় এবং সরকারি খাসজমি দখল করেই নির্মাণকাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসার নামে টাকা আদায়ের বিষয়টি জানেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, থানার হাট বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাসজমি দখলের ঘটনা ঘটছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মৌখিক অনুমোদন দেওয়ায় প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে বহুতল ভবন নির্মাণের সাহস পাচ্ছেন।
মাদ্রাসার সুপারেনটেন্ডট আব্দুল হক বলেন, “মাদ্রাসা উন্নয়নের জন্য সোলাইমান ডুবাই ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আকবর ডুবাই ওয়ালাকে।” সরকারি জায়গায় দালান নির্মাণের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা কাঁচা ঘর করার কথা বলেছিলাম। তারা এখন জোরপূর্বক দালান নির্মাণ করছেন।”
সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বাবুল বলেন, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ কিছু করার সুযোগ নেই। ব্যক্তিগতভাবে কিছু করলে তার দায়ভার দল নিবে না।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া বলেন, “মাদ্রাসার জন্য কিছু টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। তবে বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এমন কিছু হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)আকিব ওসমান বলেন, ঘটনাস্থলে এসিল্যান্ডকে পাঠানো হয়েছে। এসিল্যান্ড গিয়ে বেআইনী ভাবে পাকা ভিটি তোলায় অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :