
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ীতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এবং খুলনায় সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এসব ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার বাইপাস চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, হত্যা, মব সংস্কৃতি এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী আক্রমণের নিন্দা জানানো হয়। বক্তারা অবিলম্বে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। সম্প্রতি নদী থেকে সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শলুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো এবং কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায় দুর্বৃত্তরা।
বক্তারা বলেন, একের পর এক হামলার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতা কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। সাংবাদিকেরা বর্তমানে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পেশাজীবী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছেন।
দৈনিক দিনকাল পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি নূর মোহাম্মদ সবুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা দিলেই দেশের মানুষের ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। অবিলম্বে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দৈনিক জনকণ্ঠের খোরশেদ আলম, দৈনিক সংগ্রামের উপজেলা প্রতিনিধি সামছুল আরেফিন জাফর, মানবজমিনের আমিনুল ইসলাম মানিক, দৈনিক আমাদের সময় ও দৈনিক নোয়াখালীর কথা’র গুলজার হানিফ, কালবেলা পত্রিকার শহিদুল ইসলাম, বিজনেস বাংলাদেশের মাহাবুর রহমান, ঢাকার ডাক পত্রিকার এম এ রহমান বিপ্লবসহ উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
আপনার মতামত লিখুন :