
মোহাম্মদ হানিফ, ডিস্টাব রিপোর্টার :
সোনাইমুড়ী উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের কঠোর নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে ফসলি জমির উর্বর মাটি কাটার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। ড্রাম ট্রাক ও বড় ট্রাকে করে উর্বর কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চাপে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গভীর রাতে প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মাটি কেটে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। নদনা ইউনিয়নের হাটগাঁও এলাকায় সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে আনন্দীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে খোরশেদ আলম টিপুকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন এবং একটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, একদিনের অভিযানের পর আবার মাটি কাটা শুরু হয়। গ্রামের কাঁচা ও আধাপাকা সড়কে ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। নদনা, চাষীর হাট, অম্বনগর ও নাটেশ্বর ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কাটায় ধান ও সবজির ফলন কমে যাচ্ছে।
বারগাঁও ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর, হোসেনপুর, রামকৃষ্ণপুর, পেয়ারা পুর ও কাশিপুর গ্রামেও একই চিত্র দেখা গেছে। অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক চলাচলের কারণে পাকা রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এমপির নির্দেশনা সত্ত্বেও অবৈধ মাটি কাটা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। সচেতন নাগরিকদের মতে, রাতভিত্তিক টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন, ভারী যানবাহনের ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। ফসলি জমি ও সরকারি অবকাঠামো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :