
আবদুল্লাহ আল মামুন, দাগনভূঞা :
মাঠে মাঠে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন দাগনভূঞা উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার গ্রামে গ্রামে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বোরোর জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউবা জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন। কেউ জমির আইল ঠিক করছেন। শ্রমিকরা সারিবদ্ধ করে বোরো ধানের চারা রোপণ করছেন।
ভোরের আলো ফোটার আগেই কোমর বেঁধে ফসলের মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষকরা। কুয়াশায় ঢাকা শীতের সকালে বীজতলায় ধানের চারা পরিচর্যার পাশাপাশি জমি চাষের কাজ চলছে পুরোদমে সন্ধ্যা পর্যন্ত। নদীর পাড়ে, খালের ধারে, রাস্তার পাশের জমিতে, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ধানের কচি চারার সবুজ গালিচা। কোথাও গভীর নলকূপ থেকে চলছে জলসেচ আবার কোথাও চলছে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষের কাজ। বোরো ধান রোপনের জন্য বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে ধানের চারা। চলছে জমি প্রস্তুত, ক্ষেত পরিচর্যা আর বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপনের কাজ। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে চলতি মৌসুমে বাম্পার বোরো উৎপাদন হবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৬ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।
সরেজমিনে পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের জগতপুর এলাকায় গিয়ে দেখে গেছে, জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে স্থানীয় কৃষকরা। শ্রমিকদের নিয়ে জমিতে চারা রোপণ করছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করেছে। জমিতে সারিবদ্ধ করে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় দরাপপুরের কৃষক ইব্রাহিম রিয়াদ বলেন, ৩০০ শতক জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। শ্রমিকদের সাথে নিয়ে বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধানের ভালো ফলন হবে আশা করি।
একই এলাকার কৃষক শুক্কুর আহাম্মদ বলেন, ৯০ শতক জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পরেছি। শ্রমিকদের নিয়ে জমিতে চারা রোপণ করছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছি। জমিতে সারিবদ্ধ করে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
নয়ানপুর গ্রামের কৃষক মোঃ ফয়েজ বলেন, ১৫০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ধানের বীজ ও সার পেয়েছি।
জগতপুর গ্রামের কৃষক হাফেজ আহাম্মদ বলেন, ১২০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছি। আশাকরি ভালো ফলন হবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সার বীজ প্রণোদনা পেয়েছি।
বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিক জামাল উদ্দিন বলেন, অত্র উপজেলায় আমি কয়েক বছর ধরে বোরো আবাদের কাজ করতে আসি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করি। দিন ভিত্তিক মজুরিতে কাজ করে থাকি। লক্ষীপুর থেকে আসা শ্রমিক আবদুর রহিম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতে যাই। কাজ করা আমার পেশা। ধান রোপণ ছাড়াও ধান কাটার সময় আসি। যে টাকা আয় করি তা দিয়ে সংসার চালাই। দিন ভিত্তিক মজুরিতে কাজ করি। বাজার উঠানামা করলে আমাদের দাম কমে বাড়ে। প্রতিদিন ৮০০ টাকায় কাজ করছি। কয়েক দিন হয়েছে কাজ করছি।সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মারুফ বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে মাঠে গিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান রোপণ করে কৃষকরা যেনো লাভবান হয় এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে ধানের ফলন ভালো হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বোরো ধানের ভালো ফলন পেতে হলে সুষম সার ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে পারলে ফলন যেমন বাড়ে, তেমনি খরচও কমে। তিনি আরো বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো ধানের আবাদ এগিয়ে চলছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত জাতের বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :