
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :
সোনাইমুড়ী উপজেলা-এ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) আওতায় নিম্নমানের চাল বিতরণ ও বস্তা প্রতি ২ থেকে ৫ কেজি চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ডিলার ও উপকারভোগীদের দাবি, উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহকৃত চালের একটি অংশ মানুষের খাওয়ার অযোগ্য। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট খাদ্য কর্মকর্তা।
জানা যায়, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে চাল দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচিত কার্ডধারীরা প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল পেয়ে থাকেন। এ কার্যক্র
পরিচালনায় লাইসেন্সধারী ডিলাররা দায়িত্ব পালন করেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন বিতরণ কেন্দ্রে গিয়ে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু বস্তার চালে পোকা ও দুর্গন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও ভালো চালের সঙ্গে নিম্নমানের চাল মিশিয়ে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বস্তায় নির্ধারিত ৫০ কেজির পরিবর্তে ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত কম পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার নদনা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার ডিলার নিজাম উদ্দিন জানান, চলতি মাসে তিনি সাড়ে ১০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেছেন, যা ৩৫০ জন কার্ডধারীর মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “গত মাসেও বেশ কিছু বস্তায় নিম্নমানের চাল ছিল, এবারও একই অবস্থা। অনেক বস্তায় ৫০ কেজির জায়গায় ২-৫ কেজি কম পাওয়া যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে ভালো-খারাপ চাল মিশিয়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে কম দিয়ে হিসাব মেলাতে হচ্ছে।” জয়াগ ইউনিয়নের ডিলার মীর হোসেনও একই অভিযোগ করে বলেন, “গত মাসে ২৮৭ বস্তার মধ্যে প্রায় ৫০ বস্তা চাল নষ্ট ছিল। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজির কম থাকে, কখনো বেশি হয় না।”
দেওটি ইউনিয়নের নান্দিয়া পাড়া বাজারের ডিলার দেলোয়ার হোসেন জানান, “চলতি মাসে বিতরণ শেষ হয়নি। ইতোমধ্যে দুই বস্তা সম্পূর্ণ নষ্ট চাল পেয়েছি। ঘাটতি মেটাতে প্রতি কার্ডে ২৯ কেজি করে দিচ্ছি, তবুও ঘাটতি থাকছে।”
বিতরণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ জানান, তিনি নিজেই নিম্নমানের চাল ও ওজনে ঘাটতির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য গুদামে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পাওয়া গেলেও অফিস সহকারী মোস্তফা ভুইয়া জানান, বর্তমানে গুদামে থাকা চাল গত বছরের আগস্ট মাসে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও আর্দ্রতার কারণে কিছু বস্তার চালের মানের তারতম্য হতে পারে।
পরবর্তীতে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, “গুদামে নষ্ট চাল থাকার সুযোগ নেই। কিছু বস্তার বাইরের স্তরে আর্দ্রতার কারণে রঙের পরিবর্তন হতে পারে, তবে ভেতরের চাল ভালো থাকে।”
ওজনে ঘাটতির বিষয়ে তিনি বলেন, “ডিলাররা বস্তা গ্রহণের সময় মেপে নেওয়ার সুযোগ পান। এরপরও কোনো সমস্যা হলে গুদামে ফেরত দিলে পরিবর্তন করা হবে।”
এদিকে উপকারভোগীদের অভিযোগ, নিম্নমানের চাল ও ওজনে ঘাটতির কারণে তারা নির্ধারিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :