
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :
মাথার ওপর থেকে ছাদটুকু কেড়ে নেওয়ার হুমকিই যেন কাল হলো ষাটোর্ধ্ব আফিয়া খাতুনের জন্য। কোথায় যাবেন, কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে এই অজানা শঙ্কা আর মানসিক চাপ সইতে না পেরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার সকালে এই করুণ ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে যে মাটির ওপর সন্তানদের বড় করেছেন, সেই ভিটে হারানোর আতঙ্ক আজ একটি পরিবারের প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে। এই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় বইছে শোকের ছায়া, আর অভিযুক্ত আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
অভিযোগ উঠেছে, জয়াগ বাজার এলাকায় অন্তত পাঁচটি পরিবারের ১৮ জন সদস্য গত সাত দশক ধরে সেখানে বসবাস করছেন। সম্প্রতি ‘এসোগড়ি উন্নয়ন সংস্থা’র নামে জায়গাটি লিজ নেওয়ার দাবি করে দখলচেষ্টা শুরু করেন আব্দুল আউয়াল। স্থানীয়দের দাবি, কোনো বৈধ নোটিশ বা কাগজপত্র না দেখিয়েই প্রভাব খাটিয়ে পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের পায়তারা করছেন তিনি।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উচ্ছেদ অভিযানের কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আফিয়া খাতুন (৬০)। চোখের সামনে প্রিয় বসতভিটা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাল্পনিক দৃশ্য যেন তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া থামিয়ে দেয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত আব্দুল আউয়াল এর লোকজন হুমকি-ধুমকি দেওয়ার পর তিনি কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব বলে আহাজারি করছিলেন। এই প্রবল মানসিক যন্ত্রণাই তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। আফিয়ার মৃত্যু আজ কেবল একটি প্রাণের অবসান নয়, বরং অসহায়ত্বের এক চরম দলিল।
ভুক্তভোগী পরিবারের কান্নায় এখন সোনাইমুড়ীর আকাশ-বাতাস ভারী। এক সদস্য আর্তনাদ করে বলেন, ২০১৫ সাল থেকে আমরা বন্দোবস্তের আশ্বাস পাচ্ছি। অথচ আজ কোনো আলোচনা ছাড়াই আমাদের পথে নামানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের কোনো জায়গা নেই, এই মাটিটুকুই ছিল শেষ সম্বল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আউয়ালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার আচরণে কোনো অনুশোচনা পাওয়া যায়নি। লিজের তারিখ ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদকের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আমি কবে লিজ নিয়েছি তা বলব না, যখন ইচ্ছা তখন বলব। আমি কথা বলতে পারব না। এই বলেই তিনি ফোনটি কেটে দেন।
দীর্ঘদিনের বসতভিটা থেকে সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদ করে সংস্থা গড়ার নামে ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের এই চেষ্টাকে ‘পরিকল্পিত দখলদারিত্ব’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আফিয়া খাতুনের মৃত্যুর বিচার এবং অসহায় পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :