
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :
সোনাইমুড়ী উপজেলার ৪ নং বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। আসন্ন এই নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দুলালকে ঘিরে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর অতীতের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
নির্বাচন এখনো দোরগোড়ায় না এলেও পাড়া-মহল্লা ও চায়ের দোকানে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু এখন ‘দুলাল চেয়ারম্যান’। স্থানীয়দের মতে, তাঁর সময়ে এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং সামাজিক সংহতি বজায় ছিল। বারগাঁও ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের কৃষক আমিন উল্লাহ বলেন,
বিপদে-আপদে যে মানুষটাকে আমরা সবার আগে পাই, তিনিই দুলাল ভাই। চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর দরজা সবসময় খোলা রাখতেন। এলাকার শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে তাঁর মতো অভিজ্ঞ অভিভাবক আমাদের প্রয়োজন।
একই সুর শোনা গেল কাশিপুর এলাকার কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসানের কণ্ঠে। তিনি বলেন,তরুণ প্রজন্ম এমন নেতৃত্ব চায় যিনি প্রযুক্তিবান্ধব এবং আধুনিক ইউনিয়নের রূপকার হবেন। দুলাল সাহেব অতীতে স্কুল-মাদরাসার উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা তরুণদের মাঝে তাঁর অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে।
আব্দুর রাজ্জাক দুলাল শুধু একজন সাবেক জনপ্রতিনিধিই নন, রাজনৈতিকভাবেও তিনি বেশ প্রভাবশালী। বর্তমানে সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা সর্বজনবিদিত। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতে, তাঁর প্রার্থিতা অন্য প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উপজেলা পর্যায়ের একজন প্রবীণ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,তৃণমূলে দুলালের একটি নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। রাজনীতি ও জনসেবা উভয় ক্ষেত্রেই তিনি পরীক্ষিত। অভিজ্ঞতার কারণে বড় দলগুলোর কাছে তিনি একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
অপরদিকে, স্থানীয় এক সমর্থক ব্যবসায়ী বলেন,দল-মত নির্বিশেষে দুলাল সাহেব একজন স্বচ্ছ ইমেজের মানুষ। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তিনি একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
তৃণমূলের এই জোরালো সমর্থন প্রসঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক দুলাল বলেন,আমি জন্মলগ্ন থেকেই এই মাটির সন্তান। চেয়ারম্যান থাকি বা না থাকি, ইউনিয়নবাসীর সুখ-দুঃখে আমি সবসময় পাশে ছিলাম এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত থাকতে চাই। জনগণের দাবির মুখে এবং তাদের ভালোবাসা দেখে আমি অভিভূত। তারা চাইলে আমি সেবা করার জন্য প্রস্তুত আছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপি’র দায়িত্বশীল ও অভিভাবক বলেন. বারগাঁও ইউনিয়নে গত কয়েক বছরে রাস্তাঘাট ব্যবস্থার যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা সমাধানে একজন অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন। আব্দুর রাজ্জাক দুলাল পেশায় একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী হওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিখুঁতভাবে করার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।
তবে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় সমীকরণ এবং চূড়ান্ত মনোনয়ন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আপাতত বারগাঁও ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে একটিই নাম আব্দুর রাজ্জাক দুলাল।
আপনার মতামত লিখুন :