
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর ক্রীড়াঙ্গনে এক গৌরবময় অধ্যায় রচনা করলো হাতিয়া উপজেলা। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ ফুটবল ইভেন্টের ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে হাতিয়া দল। এ জয়ের খবরে পুরো দ্বীপজুড়ে নেমে এসেছে আনন্দের বন্যা।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে সদর পৌরসভা দলকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ট্রফি নিজেদের করে নেয় হাতিয়া। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে হাতিয়ার তরুণরা। তাদের গতি, সমন্বয় এবং দৃঢ় মনোবল মাঠে এনে দেয় নিরঙ্কুশ জয়।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে হাতিয়া। বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাতিয়া শহরসহ বিভিন্ন হাট-বাজার, ঘাট ও অলিগলিতে শুরু হয় আনন্দ-উল্লাস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও দেখা যায় শুভেচ্ছার বন্যা—প্রশংসায় ভাসছে তরুণ খেলোয়াড়রা।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে হাতিয়ার যাত্রাটাও ছিল দারুণ দাপুটে। ৩ মে প্রথম রাউন্ডে ৬-০ গোলে সেনবাগকে উড়িয়ে দেয় তারা। পরদিন ৪ মে দ্বিতীয় রাউন্ডে ৫-০ গোলে হারায় সোনাইমুড়িকে। এরপর ৫ মে সকালে সেমিফাইনালে চাটখিল উপজেলাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে দলটি। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন আব্দুল হামিদ মাহির।
শুধু ফুটবলেই নয়, অন্যান্য ইভেন্টেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে হাতিয়া দল। ২০০ মিটার দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন, উন্মুক্ত সাঁতারে দ্বিতীয়, সাঁতার চিৎ ইভেন্টে তৃতীয়, ব্যাডমিন্টন মেয়েদের দ্বৈতে রানার্সআপ এবং কাবাডিতে রানার্সআপ হয়ে সামগ্রিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করে তারা।
হাতিয়া ফুটবল দলের কোচ কাজী মাসুম বলেন, “অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে আমরা খেলোয়াড়দের পুরোপুরি গড়ে তুলতে পারিনি। তারপরও তারা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা সত্যিই গর্ব করার মতো।” তিনি এ বিজয় হাতিয়াবাসীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।
দলটির ম্যানেজার সোয়েব উদ্দিন জানান, “আমাদের টিম প্রতিটি ইভেন্টেই ভালো করেছে। ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা আমাদের জন্য বিশেষ অর্জন। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।” ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ মূলত ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের প্রতিভা বিকাশের একটি জাতীয় উদ্যোগ। দেশব্যাপী চলমান এই প্রতিযোগিতা তরুণদের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ ও সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলছে। হাতিয়ার এই সাফল্য শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়—এটি স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ। এই জয় নতুন প্রজন্মকে আরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :