
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : জাল দলিল তৈরি করে পৈত্রিক বসতভিটা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচার, সম্পত্তি উদ্ধার ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী হাসান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সোনাইমুড়ী পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ধুলিয়াপাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে হাসান মাহমুদ বলেন, তার মা রাশেদা বেগম ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল বৈপিত্রেয় ভাই চাটখিল উপজেলার মুহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাকড়াপাড়া গ্রামের সোলাইমানের নামে কিছু সম্পত্তি হেবা ঘোষণা করেন। কিন্তু ওই দলিলের স্বাক্ষরিত কয়েকটি পৃষ্ঠা পরিবর্তন করে পরদিন ৩০ এপ্রিল চাটখিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক তরিকুল ইসলাম ও অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় রাশেদা বেগমের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বসতভিটাসহ প্রায় সাড়ে ৩৪ শতাংশ জমির একটি জাল সাব-কবলা দলিল তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে খালার কাছ থেকে অতিরিক্ত সাড়ে তিন শতাংশ জমি ক্রয় করে সম্পত্তির দখল বুঝে নিতে গেলে অভিযুক্ত সোলাইমান দাবি করেন, রাশেদা বেগম তার সব সম্পত্তি সাব-কবলামূলে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে চাটখিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে জাল দলিলের বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন হাসান মাহমুদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মায়ের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোলাইমান, দলিল লেখক তরিকুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, ইসলাম ও কামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি।” আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
হাসান মাহমুদের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই বিবাদীরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তিনি দাবি করেন, চলমান মানসিক চাপ ও আতঙ্কের মধ্যেই তার মা রাশেদা বেগম গত ১০ মার্চ এবং বড় ভাই ১৮ মার্চ মারা যান।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে আমাকে হত্যা করা হতে পারে। আমি শুধু আমার মায়ের স্মৃতি আর ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই।”
তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :