প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৩ আগস্ট, ২০২৬

রাজনীতিতে এসে কোনো সুবিধা নেওয়ার চিন্তা ছিল না মোশাররফ হোসেনের : পানিসম্পদ মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন রাজনীতিতে এসেছিলেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং ফেনীবাসীর জন্য কিছু করতে। রাজনীতিতে এসে কোনো সুবিধা নেওয়ার চিন্তা তার ছিল না; বরং তিনি মানুষের জন্য অনেক কিছু করে গেছেন।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ মোশারফ হোসেনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ফেনী আমার ফেনী’ আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রত্যাশা করতে গেলে আবারও বিপদ আসতে পারে। তাই মানুষের অতিরিক্ত প্রত্যাশার সুযোগ যাতে কেউ নিতে না পারে, সে বিষয়ে রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক কর্মী ও দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও কাজের মধ্যে যেমন সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন, তেমনি মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গেও বাস্তবতার সমন্বয় থাকতে হবে। নির্বাচনের পর মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। ৫ আগস্টের পর রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের ধারণাতেও পরিবর্তন এসেছে। সেই আস্থা ও ধারণা ধরে রাখার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের।

মন্ত্রী বলেন, সরকারে আসার ছয় মাসের মধ্যে সবার জন্য অনেক কিছু করে ফেলা হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিতে হয়। তবে গত ১৭ বছর মামলা, হামলা, অত্যাচার, নির্যাতন, গুম ও খুনের যে পরিস্থিতি ছিল, অন্তত সেখান থেকে মানুষ রেহাই পেয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হয়েছে। এখন দেশের মানুষের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং সেই রাজনীতিই তাদের পথচলার ভিত্তি।

মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের স্মৃতিচারণ করে এ্যানি বলেন, ফেনীর মানুষকে কিছু দেওয়া এবং তাদের পাশে থাকার তাগিদ থেকেই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে এলেও ১৯৯০ সালের পর থেকেই তার সঙ্গে মোশাররফ হোসেনের পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল।

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বোরহান উদ্দিন ফয়াসাল ও আমির হোসেন জনি।

স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারোয়ার আলম, মরহুম মোশাররফ হোসেনের জ্যেষ্ঠ কন্যা ও ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের পরিচালক ফারাহ আঞ্জুম বারী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মশিউর রহমান বিপ্লব, আবু তালেব, বিএনপি নেতা ইয়াকুব নবী, নুরুল আমিন ভূঁইয়া বাদশা, মোরশেদ আলম প্রিন্স ও নাজমা সুলতানা ঝংকারসহ অনেকে।

রেহানা আক্তার রানু বলেন, ফেনীবাসী আজও মোশাররফ হোসেনের শূন্যতা অনুভব করছেন। তিনি ছিলেন সবার অভিভাবক। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মামলা ও হুলিয়া নিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নেওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের তিনি বটবৃক্ষের ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত বিশ্বস্ত মানুষ ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারোয়ার আলম বলেন, রাজনীতি ও মিডিয়ায় মোশাররফ হোসেনের বড় অবদান ছিল। তিনি ছিলেন মিডিয়ার আলোকবর্তিকা। জনপ্রিয় পত্রিকা প্রকাশের পাশাপাশি বহু যোগ্য সাংবাদিক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। সৎ জীবনযাপনের পাশাপাশি দেশে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও করেছেন।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ব্যবসা, রাজনীতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে মোশাররফ হোসেনের অবদান ছিল। ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় বাংলাদেশি স্পন্সর না পাওয়া গেলে তিনি এগিয়ে এসেছিলেন।

মোশাররফ হোসেনের বড় মেয়ে ফারাহ আঞ্জুম বারী বলেন, তার বাবা পোশাক রপ্তানিকারক সংগঠনের সভাপতি, জনশক্তি রপ্তানিকারক সংগঠন বায়রার সভাপতি, ইসলামী ব্যাংকের ফাউন্ডার স্পন্সর ডিরেক্টর এবং ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের স্পন্সর ডিরেক্টর ছিলেন। তবে এসব পরিচয়ের বাইরে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল—তিনি একজন ভালো মানুষ। তিনি বাবার রুহের মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

এম আবদুল্লাহ বলেন, মোশাররফ হোসেন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও গণমাধ্যমের প্রতি তার দরদ, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকতার বিকাশে অবদান ছিল অসামান্য। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের তার অবদান সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৫ সালে ঢাকায় ফেনী সাংবাদিক ফোরাম প্রতিষ্ঠায় মোশাররফ হোসেনের বড় ভূমিকা ছিল। তার উৎসাহ ও সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠন পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে সাংবাদিক ফোরাম গঠনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। মোশাররফ হোসেনের জীবন ও অবদান নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকাশনা হওয়া প্রয়োজন।

স্মরণসভায় বক্তারা মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক ও গণমাধ্যমে অবদানের পাশাপাশি তার সততা, বিনয়, মানবিকতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন। পরে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

আরও পড়ুন