
স্টাফ রিপোর্টার :: বেগমগঞ্জে অবস্থিত আপার মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২ জন এবং মানবিক বিভাগ থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে পুরো নোয়াখালী জেলায় শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এটি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জর্জরিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এখন কার্যত টিকে থাকার লড়াইয়ে আছে।
অর্থসংকট, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে কলেজটি একাধিকবার হাতবদল হয়েছে। বর্তমানে এর নিজস্ব কোনো ভবন নেই, শ্রেণিকক্ষ না থাকায় অন্য একটি কলেজে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে আসছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার অনুকূল পরিবেশের অভাব ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ফলাফলে এই চরম বিপর্যয় ঘটেছে। তারা কলেজের সার্বিক সংস্কার ও স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে, ২০২৫ সালে এই কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে কেবল পাস করে একজন। তখন এটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। তখন কলেজের দায়িত্বে থাকা হাসান মোর্শেদ বলেন, কলেজটির আগের মালিকানা নেই। আমার কাছে কেবল কাগজপত্র আছে। অর্থ সংকট থাকায় তারা এগোতে পারে নি। এবছর অন্য কলেজে ক্লাস নিয়ে পূর্বের রেজিস্ট্রেশন থাকা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে। ফলাফলের বিষয়ে আমার তেমন জানা শোনা নেই।
কলেজটির দায়িত্বে থাকা জহিরুল ইসলাম রুবেলকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কলেজটির উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা মো. ফজলে আজিম নুর নবী বলেন, আমাদের অনেক সমস্যা আছে। আমরা সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। নতুনভাবে চলার প্রত্যয় রয়েছে কিন্তু আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই সময় দিতে পারছি না। যে স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলাম সেটি এখন আর নেই।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে ফলাফল জানতে পেরেছি। । তবে আপার মডেল কলেজের এ বছরের ফলাফলে আমরা হতাশ হয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল আমরা আশা করি না।
আপনার মতামত লিখুন :