• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৯ জুলাই, ২০২৪

আব্দুল কাদের জিলানী (র.)-এর ১০ উপদেশ

ধর্ম-জীবন ডেস্ক: আব্দুল কাদের জিলানী (র.) ইতিহাসের এক প্রদীপ্ত মনীষী। হাজার বছরব্যাপী মুসলমানদের চিন্তা ও মননকে আলোকিত করেছেন। আধ্যাত্মিকতার বরেণ্য ইমাম হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। কাল ও শতাব্দী পরম্পরায় তাঁর মুখনিঃসৃত নাসিহাহ মানুষের আত্মোন্নতি, আত্মশুদ্ধির বিপ্লব সাধন করে চলছে। আঁধার ছেড়ে আলোর ভুবনে, পাপের আসর থেকে পুণ্যের মজলিসে কত শত লোক ছুটে আসছেন তার সুরভিত বাণীর প্রভাবে। তাঁর কিছু নসিহ নিয়েই আজকের এই লেখা।

আল্লাহর কাছে সমর্পণ: হে বৎস! আল্লাহর সিদ্ধান্তের সামনে নিজেকে পূর্ণরূপে সমর্পণ কর। আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর যে প্রশ্ন উত্থাপন করে তার দ্বীন মরে যায়। তার তাওহিদ মরে যায়। তার তাওয়াক্কুল মরে যায়। মরে যায় তার আমলের ইখলাস।

মুমিনের হূদয় কখনো আল্লাহর সিদ্ধান্তে কোনো প্রকার আপত্তি উত্থাপন করে না। মুমিন জানতে চায় না আল্লাহ এমনটি কেন করেছেন? কীভাবে করেছেন? প্রকৃত মুমিন তো সে যে সর্বদা আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে এবং ভরসা করে একমাত্র তার ওপর।

আত্মশুদ্ধি: হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ কর। কেননা, যখন তোমাদের আত্মা পরিশুদ্ধ হবে, তখন তোমাদের যাবতীয় কাজকর্ম পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে। আর এ জন্যই দু-জাহানের বাদশাহ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জেনে রেখো! নিশ্চয় দেহে একটি অংশ রয়েছে, তা পরিশুদ্ধ হলে পুরো দেহ পরিশুদ্ধ হয়ে যায়। আর তা নষ্ট হয়ে গেলে পুরো দেহ নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রেখ! তা হলো কলব বা আত্মা।’ (বুখারী: ৫২; মুসলিম: ১৫৯৯)

আত্মশুদ্ধি হলো তাকওয়া তথা খোদাভীতি। সব কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা, তার একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন এবং ইখলাসের সঙ্গে আমল করা।

ইখলাসের পরিচয়: ইখলাস হলো, যখন তুমি মানুষের প্রশংসা ও নিন্দা কোনোটির প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবে না। তাদের প্রশংসা ও নিন্দা উভয়টি তোমার কাছে বরাবর মনে হবে। তুমি তাদের সহায়-সম্পদের প্রতি আকাঙ্ক্ষিত হবে না। তোমার সব কিছু হবে একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার জন্য।

অহমিকার চিকিৎসা: তুমি কখনো তোমার আমল নিয়ে অহংকার কর না। কেননা অহংকার আমলকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। ধ্বংস করে দেয় আমলের বিশাল পাহাড়কে। যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্বীকার করে এবং কৃতজ্ঞতায় নুয়ে পড়ে তার দেহ-প্রাণ, তার হূদয় থেকে আমলের অহমিকা মুছে যায়। তাই আল্লাহর অপার অনুগ্রহের কথা বেশি করে স্মরণ কর, যা তিনি তোমার ওপর ঢেলে দিয়েছেন বৃষ্টির মতো।

সংস্পর্শের প্রভাব: তুমি সব ধরনের অসৎ সংস্পর্শ ত্যাগ কর। খারাপ ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠাবসা ছিন্ন কর। তোমার এবং তাদের মধ্যকার সব হূদ্যতা মিটিয়ে ফেলো। অসৎ সংস্পর্শ ত্যাগ করে সৎ ও নেককার বান্দাদের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সেতু তৈরি কর।

তুমি তোমার নিকটস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গ পরিহার কর, যদি তারা মন্দ হয়। দূরের ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি কর, যদি তারা হয় সৎ ও নেককার।

প্রত্যেক ওই ব্যক্তি যাকে তুমি ভালোবাসো, তার দূরত্ব তোমার কাছে নৈকট্য মনে হবে। সুতরাং ভেবে দেখ, তুমি কাকে ভালোবাসো।

আল্লাহর স্মরণ: যে ব্যক্তি অন্তর দিয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে সেই প্রকৃত জিকিরকারী। যে অন্তরে আল্লাহকে স্মরণ করে না, সে প্রকৃত জিকিরকারী নয়। জিহ্বা হলো অন্তরের সেবক। প্রকৃতার্থে সে তারই অনুসরণ করে।

উত্তম বন্ধু: তুমি সে সব মজলিসে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দাও, যা তোমাকে দুনিয়ার মোহ ও লালসার প্রতি আসক্ত করে তোলে। সে সব মজলিসের অন্বেষণ কর, যা তোমাকে দুনিয়ার প্রতি বিমুখ করে দেবে। কেননা মানুষ তার স্বগোত্রীয়দের অনুসরণ করে।

উপদেশ শ্রবণ কর: তুমি সর্বদা উপদেশ শ্রবণ কর। কেননা অন্তর যখন উপদেশ থেকে বিরত থাকে, তখন সে অন্ধ হয়ে যায়।

জান্নাতের এক টুকরো: জনৈক ব্যক্তি একজন বিজ্ঞ জ্ঞানীর কাছে এসে বলল, আমি এক টুকরো জান্নাত চাই। এ ছাড়া আর কিছুই চাই না। জ্ঞানী লোকটি তখন আগন্তুক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি হয়তো দুনিয়ার ব্যাপারে সন্তুষ্ট হয়ে গেছ, যেমন সন্তুষ্ট হয়ে গেছ আখেরাতের ব্যাপারে। জান্নাতের সামান্য এক টুকরো নয়, বরং পুরো জান্নাতই কামনা কর।

আখেরাত সজ্জিত কর: সব কাজে-কর্মে মুমিনের নিয়ত খালেস ও পরিশুদ্ধ থাকে। মুমিন দুনিয়ার জন্য কোনো আমল করে না। দুনিয়ায় থেকে সে তার আখেরাতকে নির্মাণ করে। সুসজ্জিত করে পরকালকে। সে মসজিদ, মাদরাসা, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করে। মুসলমানদের চলার পথকে কণ্টকমুক্ত রাখে। এ ছাড়া আর যা কিছু করে তা তার পরিবার-পরিজন, ফকির, মিসকিন, এতিম, বিধবা এবং নিজ অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন পূরণের জন্য করে। মুমিন সব কাজকর্মের মাধ্যমে তার আখেরাতকে নির্মাণ করে। কোনো কাজ প্রবৃত্তি ও মানসা পূরণের জন্য করে না।

আরও পড়ুন