• ঢাকা
  • বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩ আগস্ট, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৩ আগস্ট, ২০২৪

কবি বদরুল হায়দার তাঁর ৬২তম জন্মোৎসব পালিত

আলা-উদ্দীন সুজন, সদর : কবি সমকালীন বাংলা কবিতার বহুমাত্রিক চিন্তার অগ্রদূত কবি বদরুল তাঁর ৬২তম জন্মদিন ১ আগস্ট ১৯৬২ সনের একদিনে নোয়াখালী হেলার বেগমগঞ্জ থানার গনিপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। দেশ বিদেশে বরেণ্য এ কবি। তিনি একাধারে সম্পাদক, প্রকাশক, গবেষক ও চিত্র শিল্পী।

তাঁর পিতা- মজিবুল হায়দার চৌধুরী, মাতা- নুর জাহান বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে কবি পঞ্চম। গণিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেগমগঞ্জ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়, চৌমুহনী এস এ কলেজ, জগন্নাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। তিনি চৌমুহনী এস এ কলেজ ছাত্র সংসদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হন ১৯৮০ সালে। তিনি সব সময় একজন মেধাবী ছাত্র।

কবি কবিতার বাইরে অন্য কোনকিছু নিয়ে চিন্তা করেন না। কবিতা, বই বেরকরা, কবিতার ছোট কাগজ সম্পাদনা করা, কবিদের সংগঠিত করা, লেখালেখির উৎকর্ষতা নিয়ে কাজ করা, কবিদের কল্যাণে নিবেদিত থাকা, এর বাইরে ছবি আঁকা, লেখালেখি করা ছাড়া বৈষয়িক অন্য কিছু নিয়ে তিনি ভাবতে রাজি নন। কবির জন্মদিন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আকারে কবিতা চর্চা, কাব্য মনন ও চারুপাতা, কবিতা ও শিল্প সাহিত্যের ছোট কাগজের উদ্যোগে চৌমুহনীর তুলির পরশ স্টুডিওতে সন্ধ্যা সাতটায় জন্মোৎসব আয়োজন করা হয়।

কবি সুফী সৈয়দ রূপক রশীদ এর সভাপতিত্বে কবি বদরুল হায়দার এর জন্মোৎসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কবি লেখক গবেষক ম. পানা উল্যাহ, তুলির পরশ স্টুডিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবি ও শিল্পী অধ্যক্ষ মহি উদ্দিন মোহন ( অধ্যক্ষ- চারুগৃহ: শিশু কিশোর চারুকলা প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়), কবি মশিউর রহমান মসী, কবি ফিরোজ মাল, আলা-উদ্দীন সুজন, প্রকৌশলী আলমগীর কবির, প্রকৌশলী শামীম, গোলাম সারোয়ার, জয়নাল আবেদীন মানিক সরকার, মামুন হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে কবির জীবনী, লেখালেখি, কবিতা ও কবিদের জন্য ত্যাগ এবং জীবনে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের বিষয়ে আলোচক গণ বিস্তারিত আলোচনা করেন। আশির দশকে বাংলা কবিতা সাহিত্যে ভিন্ন ধারার কবিতা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন কবি বদরুল হায়দার। ১৯৯৬ সনে বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রকল্পে ছয়মাস ব্যাপি প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৯২ সনে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ”আত্মজ পরিব্রাজক” শিরোনামে বই মেলায় প্রকাশ করে কবি হিসেবে সাড়া ফেলে। এযাবত তাঁর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থের সংখ্যা আঠারোটি। তন্মধ্যে কালো সিল্কের অন্ধকার, সময় বিক্রির গল্প, মুই তোরে কোচ পাঙ, নোনা জলে সুফলার গান, নষ্ট কুলে এক চিৎকার, প্রভৃতি তাঁর উল্লেখ যোগ্য কাব্য গ্রন্থ। তাঁর একটি ছড়া গ্রন্থও আছে। এছাড়া তিনি সাতটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। বারোমাস, ভূলুয়া, কবিতা চর্চা, চারুপাতা, ছোট কাগজ সম্পাদনা করেন। তিনি ম্যাজিক লন্ঠন, চর্য্যাপদ কবিতার আড্ডা সংগঠকদের অন্যতম। তাঁর কবিতায় বক্তব্যের বহু মাত্রিক দিক ফুটে উঠে। চিন্তার খোরাক যোগায়।
মুই তোরে কোচ পাঙ সিরিজে পরাবাস্তব বাদের ব্যতিক্রম বক্তব্য উদ্ভাসিত – শাহবাগ ছুটি হলে পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে, কবিতার রাজধানী হয়ে উঠে তুমিহীন, তুমি আসবে বলেই পৃথিবীর শেষ ঘন্টাধ্বণী এখনও বাজেনি – এক স্বপ্নের রূপ-কল্প। কবি কল্পনা সাধারণের কল্পনার অতীত।

উপস্থিত সকলে কবিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। কবি তাঁর দু,টি কবিতা পাঠ করে উপস্থিত সকলকে শোনান। শ্রাবণের অঝোর ধারায় অবগাহন করতে করতে শন শন শব্দের ঝনঝনানিতে জন্মোৎসব অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। এমন উদ্বীপ্ত জন্মোৎসব অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি মশিউর রহমান মসী। আলোচনা শেষে বন্ধুদের উপহারে সমৃদ্ধ কবির জন্মদিনের কেক কাটা অনুষ্ঠান শেষে আনন্দ ঘন পরিবেশে উৎসব শেষ হয়।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর