
আলা-উদ্দীন সুজন, সদর : আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সতর্ক সংকেতের আগেই জেলার নয়া খানের পানি বৃদ্ধি পেয়ে গত ১২ দিনে বিপদশীমার উপরে উঠে। এতে জেলার সদর উপজেলা জেলার প্রায় সকল ইউনিয়নে দুই হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্ধি। বন্ধ হয়ে যায়, দিন মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থান।
প্রায় ১২দিনের এই বন্যায় বহু পরিবারের রান্নাঘরসহ চুলা পর্যন্ত ডুবে যাওয়ার কারণে শুকনা খাবার খেয়েই দিন কাটাচ্ছে নেয়াজপুর ও চর উরিয়ার প্রায় ৭শত থেকে ১হাজার পরিবার। বৃষ্টির পর সৃষ্ট বন্যায় রাস্তা ঘাট ডুবে । গত দুইদিনের বৃষ্টিতে চরমভাবে বন্যার পানি বাড়তে থাকলে জেলায় প্রায় সকল ইউনিয়নের মৎস্য চাষীদের প্রজেক্ট ভেসে যায়।
সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের ১৩ টি মাছের প্রজেক্ট ভেসে যায়। তারমধ্যে জাহানাবাদ গ্রামের মৎস্য চাষি মো. দেলোয়ার হোসেনের চাষের জমিন ও পুকুর সহ দুইটি প্রজেক্ট ও চাষের জমিনে দুইটি মাছের প্রজেক্ট করেন এবং একই গ্রামের মো: মাসুদ তার একটি প্রজেক্টে রেনু ও কয়েক সাইজ সহ সাতশত গ্রাম থেকে বারশত গ্রামের প্রায় আড়ানি (২.৫) টন মাছ বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তারা দুইজনের প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ ভেসে যায় বলে তারা জানান।
মৎস্য চাষিরা জানায় জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৫-২৭ মাছের প্রজেক্ট আছে, যাদের মোট ব্যয় হতে ২০-২২ লাখ টাকা। এই বন্যায় সকলের মাছ ভেসে যায়।
অন্যদিকে এই মাছের প্রজেক্ট গুলোর কারণে জলাবদ্ধতার বেড়েছে বলে দাবি করেন, এলাকায়বাসি। এলাকা বাসি বা সাধারণ মানুষের দাবি, মাছের প্রজেক্ট করতে পানি আটকে রেখে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সাথে সাথে খালের পানি বেড়ে গ্রামের প্রবেশ করে এবং বন্যার ভেসে যায় প্রায় নোয়াখালী পৌর এলাকা এবং সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ২৬ হাজারেরও বেশি পরিবার।
এই সময় সাধারণ মানুষের ত্রান সাহায্য জরুরী। বার দিনে দিন মজুর ও মধ্যবৃত্ত মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বাড়ছে ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত।
সৃষ্ট বন্যায় বন্যাত্বদের মাঝে খাদ্য বা প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণের বিষয়ে নোয়াখালী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিলটন রায়ের মুঠো ফোনে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেনি।
আপনার মতামত লিখুন :