
নোয়াখালীর কথা ডেস্ক : জেলাজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খামার এবং কৃষি জমি ও মৎস্য ঘের প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়েছে। পানি নেমে যাবার সাথেই স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষত চিহ্ন,দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার তান্ডবে ক্ষয়ক্ষতি। বাড়ছে দুর্ভোগ,বাড়ছে রোগ -বালাই। গত তিনদিন বৃষ্টি না হলেও এখনো জেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বন্যার পানি কমতে থাকার সাথে বাড়তে শুরু করেছে ডায়রিয়া,আমাশয় পেটের পীড়া সহ পানিবাহিত নানা রোগ।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী আমির ফয়সাল বলেন, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩ পর্যন্ত জেলা সদরে ৩০ মি.মি পানি কমেছে। গত তিনদিন জেলায় কোন বৃষ্টিপাত হয়নি। পানি দ্রুত নামার জন্য জেলার বিভিন্ন জায়গায় খালের বাঁধ ও সড়কের অংশ কেটে দেয়া হয়েছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ সৈয়দ মহি উদ্দিন আবদুল আজিম জানান, গত ২২ আগস্ট থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ৫ শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে বেশির ভাগ রোগীই শিশু। বন্যায় এ পর্যন্ত জেলায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা কমলেও আতংক আছে বন্যার্ত মানুষের মাঝে।
এদিকে জেলায় বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ঔষধের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জেলায় সরকারি ত্রাণ সুবিধার বাহিরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রচুর ত্রাণবাহী গাড়ি ঢুকতে দেখা যাচ্ছে। তবে এখনো দুর্গম অনেক এলাকায় ঠিকমতো ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। ত্রাণ পেতে হাহাকার করছে এখানকার দূর্গম এলাকার বন্যার্তরা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জেলায় বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে এপর্যন্ত নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ১৭১৮.৫০০ মে.টন চাল, ১০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :