
আজিজ আহমেদ, বেগমগঞ্জ : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন খামারে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সারা বছর যত্ন ও শ্রমে লালন-পালন করা দেশীয় গরু নিয়ে হাটে নামার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা গরুর চাহিদা বাড়ায় এবারের কোরবানির বাজার নিয়ে আশাবাদী স্থানীয় খামার মালিকরা।
বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের মুন্সি বাড়ির সামনে অবস্থিত “পপুলার ডেইরি এন্ড এগ্রো”-তে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। খামারে সারি সারি গরু, কর্মচারীদের ব্যস্ত পদচারণা এবং ক্রেতাদের আনাগোনায় জমে উঠেছে পুরো খামার।
বর্তমানে খামারটিতে রয়েছে প্রায় আড়াই শতাধিক গরু। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩শ কেজি থেকে শুরু করে ৮৫০ কেজি ওজনের বিভিন্ন জাতের গরু। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কাড়ছে “কালো মানিক” নামে পরিচিত প্রায় ৮৫০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির একটি গরু। গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে গরুটি দেখছেন এবং দরদাম করছেন। খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, সারা বছর পরিকল্পিত পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গরুগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়নি।
অন্যদিকে, বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত “এ জি এগ্রো ফার্ম”-এতেও কোরবানিকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। খামারটিতে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে দুই শতাধিক গরু। গরুগুলোকে সবুজ ঘাস, খড়, পাতা, ভুষি ও দানাদার খাদ্য খাওয়ানো হচ্ছে। ক্রেতারা চাইলে লাইভ ওয়েট কিংবা সরাসরি গরু দেখে ক্রয় করতে পারবেন।
খামার মালিকরা জানান, দেশীয় গরুর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় এবার ভালো বিক্রির আশা করছেন তারা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা খামারে এসে গরু দেখে যাচ্ছেন এবং দরদামও করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এবার কোরবানিকে সামনে রেখে জেলার খামারগুলোতে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার দেশীয় গরু প্রস্তুত রয়েছে। নিয়মিত খামার পরিদর্শনের পাশাপাশি খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো খামারে যাতে ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানান, জাল টাকা শনাক্তকরণ, দালাল চক্র নিয়ন্ত্রণ এবং চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাটগুলোতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি।
খামার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দেশীয় খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা গরুর সংখ্যা বাড়ায় এবার কোরবানির বাজারে আমদানি নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি ভালো বিক্রির মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াবে স্থানীয় খামার শিল্প ও প্রান্তিক খামারিদের অর্থনীতি।
আপনার মতামত লিখুন :