
সাইফুল ইসলাম নিশাত, কবিরহাট : শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই মানুষের স্বপ্ন ও ইচ্ছাশক্তিকে থামিয়ে রাখতে পারে না এমনই এক অনুপ্রেরণার নাম ইখতিয়ার উদ্দিন রাকিব।
কবিরহাট উপজেলার কবিরহাট পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড মুকিম আলী মুন্সী বাড়ির কামাল উদ্দিনের বড় ছেলে।
রাকিবের বাবা ২০২৩ সালে মৃত্যু বরণ করলে টিউশনি করে প্রতিবন্ধী ছোট বোন ও পরিবারে হাল ধরেন রাকিব।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ অনার্স (ইংরেজি) পাস করে ২০২৫ সালে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত (এখনো যোগদানপত্র আসেনি) হয়েছেন।
নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মাঝেও নিজের মেধা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। সমাজের অনেক মানুষের কাছে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক।
রাকিবের মা দৈনিক নোয়াখালীর কথাকে জানান, ছোটবেলা থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবনযুদ্ধ শুরু হয় রাকিবের। তবে কখনো হতাশ না হয়ে তিনি শিক্ষাজীবন, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নিজের লক্ষ্য পূরণে নিরলস পরিশ্রম চালিয়ে গেছেন।
পরিবারের সহযোগিতা ও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে ধীরে ধীরে তিনি সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও রাকিব সবসময় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করেন এবং অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করেন। তার এই সংগ্রামী জীবন তরুণ সমাজের জন্য একটি বড় উদাহরণ।
রাকিব বলেন, “মানুষ চাইলে সবকিছু সম্ভব। প্রতিবন্ধকতা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং নিজেকে প্রমাণ করার একটি সুযোগ।” অদম্য সাহস ও আত্মবিশ্বাস সমাজের অনেক মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে।
পারিবারিক ভরণপোষণের জন্য আপাতত প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেও আমার ১ম শ্রেণির কর্মকর্তা হওয়ার দীর্ঘদিনের একটি লালিত স্বপ্ন রয়েছে।
কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য রাজধানীতে গিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো চাকুরী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারি নি। আশাবাদী খুব শীঘ্রই এসব বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
এলাকার প্রসাশন ও রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবকরা এগিয়ে আসলে আমার এগিয়ে যেতে সম্ভব হবে।
আপনার মতামত লিখুন :