
নুশরাত রুমু, সদর : ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল নাম হলেও বাস্তবে এখনো দেড়শ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা। জেলার প্রায় ৪০ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ, কিন্তু সে তুলনায় নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
রোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি বিকল থাকা এবং সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
স্থান সংকুলানের অভাবে অনেক রোগীকেই ফ্লোরে ও টিনশেডের অস্থায়ী খুপড়ি ঘরে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। হাসপাতালের অভ্যন্তরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও ব্যাহত হচ্ছে।
অথচ প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছয়তলা বিশিষ্ট নতুন আধুনিক ভবনটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও এখনো চালু হয়নি। পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের ধীরগতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। শুধু নোয়াখালী নয়, পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রোগীরাও চিকিৎসাসেবা নিতে এই হাসপাতালে আসেন।
জানা যায়, ২০২০ সালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আধুনিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার ছয় মাস পার হলেও চালু না হওয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে আবেদন করা হয় দ্রুত হাসপাতালটি চালুর জন্য।
তখন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব মুহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম আবেদন গ্রহণ করে জানিয়েছিলেন, উপদেষ্টার নির্দেশক্রমে দ্রুত বিষয়টি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং হাসপাতালের আধুনিক সরঞ্জামাদির জন্যও বাজেট প্রণয়নের ব্যবস্থা করা হবে। তবে সেই আশ্বাসের আরও পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি ভবনটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগসহ কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে ভবনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান করে ভবনটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত নতুন ভবন চালু করে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করা হোক এবং পরিচ্ছন্ন ও মানবিক পরিবেশে আন্তরিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক।
আপনার মতামত লিখুন :