
নিজস্ব প্রতিবেদক : সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের করমুল্যাহ হযরত আয়েশা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানার জায়গা দখলের চেষ্টা, নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি, চলাচলে বাধা, চাঁদা দাবি ও হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলার করমুল্যাহ গ্রামের প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীসহ এলাকার শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার মৃত কোরবান আলীর পুত্র আলা উদ্দিন ও মৃত সিদ্দিক উল্যার পুত্র আব্দুর রহিম মাদ্রাসার জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তাদের প্রতিবাদ করলে তারা মাদ্রাসার নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি, চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে। এমনকি মাদ্রাসার পরিচালক আব্দুল মোতালেব ওরফে কামাল হুজুরকে মারধরও করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও ভুক্তভোগীরা কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।
মাদ্রাসার পরিচালক আব্দুল মোতালেব (কামাল হুজুর) বলেন, ২০০৪ সালে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করি। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছি। আমি, আমার স্ত্রী ও মেয়ে এখানে শিক্ষকতা করলেও কোনো বেতন গ্রহণ করি না। অনেক কষ্টে প্রতিষ্ঠানটি একটি ভালো অবস্থানে এনেছি। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে আলা উদ্দিন ও আব্দুর রহিমসহ তাদের সহযোগীরা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং, শ্লীলতাহানি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা করেও কোন প্রতিকার পাইনি।। এখন তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে এবং চাঁদা দাবি করছে।
তিনি আরও বলেন, একটি কুচক্রী মহলকে সাথে নিয়ে তারা মাদ্রাসার জায়গা দখলের হুমকি দিচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
মাদ্রাসার দাতা সদস্য ও মাইজদী পাবলিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল অ্যাডভোকেট আশরাফুল করিম মুঠোফোনে বলেন, আমরা কিছু মানুষ সামান্য দান-অনুদানের মাধ্যমে মাদ্রাসাটি পরিচালনার চেষ্টা করছি। এত সীমিত অর্থে এতজন শিক্ষকের বেতন দেওয়া সম্ভব নয়, তবুও শিক্ষকদের মানবিক কারণে তারা কাজ করছেন। কামাল হুজুরের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম নেই, প্রতিটি টাকার হিসাব স্বচ্ছভাবে দেওয়া হয়। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করছে তাদের সংশোধন হওয়া উচিত।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদ্রাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
আপনার মতামত লিখুন :