• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২০ মে, ২০২৬

জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় জেলা পুলিশের প্রশিক্ষণ

নুশরাত রুমু, সদর : জাপান সরকারের অর্থায়ন ও United Nations Population Fund (UNFPA)-এর কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ পুলিশের PREVAIL প্রজেক্টের আওতায় নোয়াখালীতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় তিন দিনব্যাপী পৃথক দুইটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এসব প্রশিক্ষণে জেলা ও উপজেলার নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী (WHD) সহায়তা ডেস্কে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।

এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৯ মে) নোয়াখালী ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে “মনোসামাজিক সেবা প্রদানে প্রাথমিক দক্ষতা” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন।
তিনি বলেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান পুলিশ সদস্যদের মানবিক, সংবেদনশীল ও কার্যকর সেবা প্রদানে আরও দক্ষ করে তুলবে।

জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের সহায়তায় পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন এবং UNFPA-এর নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ডা. সাদিয়া শামরিন হৃদি। বিভিন্ন থানার পুলিশ সদস্যরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তব্যে ডা. সাদিয়া শামরিন হৃদি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। অফিসিয়াল চাপ, ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে দায়িত্বের সমন্বয়, জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ, ভুক্তভোগীদের নানা সংকট এবং সীমিত লজিস্টিক সহায়তার কারণে পুলিশ সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য অনেক সময় ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নের পাশাপাশি সংবেদনশীল সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে পুলিশ সদস্যদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়েও মনোসামাজিক সহায়তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

এর আগে ১৭ ও ১৮ মে জেলা পুলিশের সদস্যদের জন্য “Responding to Technology-Facilitated Gender-Based Violence (TF-GBV)” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আরেকটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পেয়ার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. সাদিয়া শামরিন হৃদি।

ওই প্রশিক্ষণে সাইবার সহিংসতা শনাক্তকরণ, তদন্ত কৌশল, ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, ডকুমেন্টেশন, বিদ্যমান আইনি কাঠামো এবং জিডি ও এফআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সাইবার সহিংসতার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন থানার নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী (WHD) সহায়তা ডেস্কে প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যরা সেবা প্রদান করছেন। পাশাপাশি সহায়তা ডেস্কগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নও করা হয়েছে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ধারাবাহিক এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জেলার জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আরও দ্রুত, সহজলভ্য, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর