
উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া : হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে “জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬”।
ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ ও কাবিংসহ নানা আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ইউনিয়ন। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য, অভিভাবকদের উচ্ছ্বাস আর শিক্ষকদের আন্তরিকতায় দিনব্যাপী এ আয়োজন যেন পরিণত হয় শিশুদের স্বপ্ন আর প্রতিভা বিকাশের এক আনন্দমেলায়।
চরকিং ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ইউনিয়নের মোট ৩৪টি বিদ্যালয় থেকে ২২টি ইভেন্টে অংশ নেয় ৭৪৮ জন প্রতিযোগী। প্রতিটি ইভেন্টে বিজয়ী তিনজন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হবে বলে আয়োজকরা জানান।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাতিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল জব্বার। প্রধান অতিথি ছিলেন চরকিং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাইম উদ্দিন আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন মো. মাহাবুবর রহমান,সভাপতিত্ব করেন হাতিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ইউছুফ।
খেলা পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন দক্ষিণ চরঈশ্বররায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজী নাসির উদ্দীন, মধ্য চরকিং ছায়েদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখর চন্দ্র দাস, দক্ষিণ পশ্চিম চরঈশ্বররায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নবীর উদ্দিন, দক্ষিণ বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ বিজয় দাস এবং খাসের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আহদ।
ইভেন্টের বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেওয়াজ উদ্দিন আহমেদ, আজমির হোসেন আখির, শুভিন্দু দাস বাদল মেম্বার, নুর উদ্দিন মেম্বার এবং ইকবাল হোসেন মেম্বার।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী রিহানের অভিভাবক নুর উদ্দিন বলেন,বর্তমান সময়ে শিশুদের শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের মানসিক বিকাশ ঘটে। আজকে আমার সন্তানসহ এত শিশুদের আনন্দের সঙ্গে অংশ নিতে দেখে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে।
স্বাগতিক বিদ্যালয় মধ্য চরকিং ছয়েদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখর চন্দ্র দাস বলেন,জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক শিক্ষার্থীদের পডাশুনা উৎসাহী করে তুলতে এক অনন্য অনুপ্রেরণ।
খেলা পরিচালনাকারী হাজী নাসির উদ্দীন বলেন, “শিশুরাই আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তাদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ এবং সৃজনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের এই প্রতিযোগিতায় শিশুদের উৎসাহ ও অংশগ্রহণ দেখে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আমরা চাই, চরকিং ইউনিয়নের প্রতিটি শিশু একদিন দেশের গর্ব হয়ে উঠুক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যেচরকিং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাইম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের জন্য এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনেক লুকায়িত প্রতিভা বেরিয়ে আসবে। শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে চরকিং ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রমের পাশে থাকবে। চরকিং ইউনিয়নে যত ধরনের খেলাধুলা, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজ হবে, আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের আবেগ আর শিক্ষকদের আন্তরিক উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হলে আনন্দে ভরে ওঠে কোমলমতি শিশুদের মুখ।
দিনব্যাপী এ আয়োজন চরকিং ইউনিয়নের শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :