প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৩ জুলাই, ২০২৬

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নোয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, সেরা ডা. জিহাদুল হক

সিনিয়র প্রতিবেদক : জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে নোয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. মুহাম্মদ জিহাদুল হক শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে নোয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের উপপরিচালক আবুল কাশেম মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম- এর হাতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন ডা. মুহাম্মদ জিহাদুল হক।

নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা, স্বাভাবিক প্রসব বাড়ানো এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক মায়েদের বিনামূল্যে মানসম্মত সেবা দেওয়ার ধারাবাহিক সাফল্যের ভিত্তিতে এ স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডা. মুহাম্মদ জিহাদুল হক বলেন, “২০১৬ সালে এই প্রতিষ্ঠানে প্রসব সংখ্যা ছিল শূন্য। সেই প্রতিষ্ঠান আজ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।”

তিনি বলেন, “মায়েদের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেছি, যাতে তারা হাসপাতালে এসে ভয়ের পরিবর্তে আপন মনে করেন। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ল্যাব ও আলট্রাসনোগ্রাম সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, মানুষের আস্থা ও সহকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাবেন।

কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে নোয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ১ হাজার ২৯৭টি প্রসবসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২৩টি সিজারিয়ান অপারেশন করতে হয়েছে। অর্থাৎ ৯৮ শতাংশের বেশি মা স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

একসময় যেখানে এ প্রতিষ্ঠানে প্রসবসেবা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেখানে চিকিৎসক, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীণারায়ণপুর এলাকার প্রসূতি কামরুন নাহার বলেন, “এখানকার সবার আন্তরিক সেবা আমাদের মুগ্ধ করেছে। সন্তান পৃথিবীতে আসার আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবা পেয়েছি। চিকিৎসক ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার নিবিড় তত্ত্বাবধানে আমার সন্তান পৃথিবীতে এসেছে। আলহামদুলিল্লাহ, এখন মা ও সন্তান দুজনই ভালো আছি।”

তিনি বলেন, “এখানে সেবার পরিবেশ অনেক ভালো। চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকভাবে সেবা দেন। বিনামূল্যে ভালো চিকিৎসা পাওয়ায় আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি।”

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের নোয়াখালীর উপ-পরিচালক আবুল কাশেম মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করা এবং ঘরে অনিরাপদ প্রসব কমিয়ে আনা। নোয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবার হাসপাতালে প্রসব করাতে অনাগ্রহী হলেও এই কেন্দ্রে বিনামূল্যে মানসম্মত সেবা পাওয়ায় মানুষের আস্থা বেড়েছে। একজন মা ভালো সেবা পেয়ে অন্যদেরও এখানে আসতে উৎসাহিত করছেন।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকসহ পুরো টিমের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার ফলেই জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি এসেছে। এ অর্জন ভবিষ্যতে সেবার মান আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহ জোগাবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর