প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১১ জুলাই, ২০২৬

মাইজদীতে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চলছে হকার্স মার্কেটের নির্মাণ

নুশরাত রুমু, সিনিয়র প্রতিবেদক : মাইজদী প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন হকার্স মার্কেটের বহুতল ভবন ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। ভবনের নির্মাণকাজের কারণে পাশের একাধিক মার্কেট ও দোকানঘরে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

হাইকোর্টের আদেশ এবং নোয়াখালী পৌরসভার নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরেজমিনে গিয়ে নির্মাণকাজ চলতে দেখা গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের কাজ চলছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনের ভিত্তি নির্মাণের জন্য প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর করে মাটি খনন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মাটি ধারণের ব্যবস্থা যথাযথভাবে গ্রহণ না করায় বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে গিয়ে পাশের ভবনগুলোর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি ভবনের দেয়াল, মেঝে ও সিঁড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. রফিক উল্লাহ জানান, তাঁর বাবা লাতু মিয়ার মালিকানাধীন মার্কেটে ১০টি ভাড়া দেওয়া দোকান রয়েছে। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই মার্কেটের সামনের অংশ ও সিঁড়িতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।

মিতালী ক্লথ স্টোরের মালিক সাইদুল হক হাসান বলেন, তাঁর দোকানের সামনের অংশ এবং ভবনের তৃতীয় তলার টাইলসে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে মরিয়ম সুপার মার্কেট, ব্যতিক্রম, এপেক্স, বাটা, স্টেপ ও মাস্টার সু’র কর্মচারীরাও প্রতিবেদককে ভবনের বিভিন্ন স্থানের ফাটল দেখান। তাঁদের দাবি, নির্মাণকাজ শুরুর আগে এসব ভবনে এমন সমস্যা ছিল না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ ওঠার পর ক্ষতিগ্রস্তরা আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন দায়ের করা হয়। গত ৬ জুলাই হাইকোর্টের একক বেঞ্চ জেলা জজ আদালতের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করে রুল জারি করেন বলে আইনজীবীর সনদে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে ৮ জুলাই নোয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক ডা. মো. শেখ ছাদেক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নোয়াখালী ক্ষুদ্র হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অননুমোদিত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আশপাশের ভবনের ক্ষয়ক্ষতি রোধে জরুরি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে ভবন ধস, ভূমিধস এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়।

তবে শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হালকা বৃষ্টির মধ্যেও শ্রমিকরা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী মো. সেলিম বলেন, “নিষেধাজ্ঞা বা স্থগিতাদেশ নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। মামলা চলুক। একটি কাজ শুরু হলে নানা ধরনের বাধা আসে। আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত নই। বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে, তবে বন্ধ হয়নি। নিচের কাজ শেষ হলে নির্মাণ আরও দ্রুত এগোবে, ইনশাআল্লাহ।”

এ বিষয়ে নির্মাণকারী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে প্রকৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর