
নুশরাত রুমু, সিনিয়র প্রতিবেদক : জেলার কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, ভৌত অবকাঠামো ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় আসন সংখ্যা পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন জেলার কলেজ অধ্যক্ষরা। এ দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে অধ্যক্ষ ফোরাম নোয়াখালীর নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতারা এ স্মারকলিপি জমা দেন। এতে শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কলেজভিত্তিক আসন সংখ্যা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় জেলার কয়েকটি সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অনুমোদিত আসনের বাইরে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা নেই। ফলে সরকারি কলেজগুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ তৈরি হলেও বেসরকারি কলেজগুলো শিক্ষার্থী সংকটে পড়েছে।
অধ্যক্ষ ফোরামের নেতারা জানান, গত ২২ জুন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার নজরে আনা হয়।
স্মারকলিপিতে নোয়াখালীর সব কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, ভৌত অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একাদশ শ্রেণির আসন সংখ্যা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ ফোরাম নোয়াখালীর আহ্বায়ক ও ভুলুয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর মোহাম্মদ হারুন, সদস্য সচিব ও মাইজদী পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ তাকদির হোসেন মো. সাদরিল ওয়ালা, মেজর মান্নান কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম, ন্যাশনাল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ফখরুল ইসলাম মিলন, ডেসটিনি কলেজের অধ্যক্ষ কেশব চন্দ্র দেবনাথ, নোয়াখালী রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহ মিজানুল হক মামুন, থানার হাট কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইয়াসিন এবং সেনবাগ লায়ন মানিক মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমিন সবুজ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নান্দিয়াপাড়া বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুক, বাঁধেরহাট আবদুল মালেক কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রশিদ আহাম্মদ, এমএ হাসেম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জহির উদ্দিন আজমসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।
অধ্যক্ষ ফোরামের নেতারা জানান, এর আগে গত ১২ জুলাই কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে একই দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
আপনার মতামত লিখুন :