প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৮ অক্টোবর, ২০২৬

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও রপ্তানিকারক হতে হবে বাংলাদেশকে

নিউজ ডেস্ক : ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং প্রযুক্তির উদ্ভাবক, স্রষ্টা ও রপ্তানিকারক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের (GIU) প্রধান ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিশ্ববাজারে সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্সের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি ও সেবা খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বাসেডর ফেরদৌস শাহরিয়ার অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (GIU) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘AI and Innovation’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একই সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় শক্তি হলেও অল্প কয়েকটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো বৈশ্বিক সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এখনই বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস বহুমুখী করার উদ্যোগ নিতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, “এআইকে শুধু সরকারি কাজ দ্রুত করার প্রযুক্তি হিসেবে দেখলে চলবে না। এআই, সফটওয়্যার, আউটসোর্সিং ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাংলাদেশের জন্য বিলিয়ন ডলার আয়ের বড় খাত হতে পারে।”

তিনি বলেন, ছোট দেশ হয়েও ইসরায়েল হাজার হাজার প্রযুক্তি কোম্পানি এবং শক্তিশালী প্রযুক্তি শিল্প গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও মেধাবী জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে একইভাবে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব।

সম্প্রতি বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সিলিকন ভ্যালি সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অ্যাপল, মেটা ও এনভিডিয়ার মতো বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। অ্যানথ্রপিকও বাংলাদেশে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উইংকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইংগুলোকে শুধু আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। এসব উইংকে নতুন উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা হওয়া নয়; প্রযুক্তির স্রষ্টা, মালিক ও রপ্তানিকারক হওয়া।”

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি সেবা, ডিজিটাল পরিচয়, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য কার্যকর এআইভিত্তিক সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি। দেশে তৈরি এসব প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের বিশাল বাজারকে কাজে লাগিয়ে হার্ডওয়্যার উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, এআই নিয়ে আলোচনা শুধু সেমিনার বা সংলাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসায়ী সমাজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত একটি বাস্তবমুখী ও সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইসিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর