
নোয়াখালীর কথা ডেস্ক : ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের প্রাক্কালে গত এক বছরে প্রয়াত (১৮ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ২ অক্টোবর ২০২৬) সদস্যদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জাতীয় প্রেস ক্লাব। বুধবার বিকেলে প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক এবং বিএফইউজে মহসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রানা।
প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এ কে এম মহসীন, মো. মোমিন হোসেন, শাহনাজ বেগম পলি, সাংবাদিক শেখ এনামুল হক, মাহবুবুর রহমান, শিরিন সুলতানা, কবি মোশাররফ হোসেন ও কাজিম রেজার কন্যা ফারহানা রেজা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সভার শুরুতেই প্রয়াত সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আগামী ২০ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের ৭২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে ১৭ অক্টোবর থেকে।
শোকসভার সঞ্চালক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া মৃত্যুর সময় অনুসারে প্রয়াত সদস্যদের সংক্ষিপ্ত পরিচিত তুলে ধরেন। প্রয়াতরা হলেন- নিখিল মানখিন, আখতার হোসেন মাসুদ,আবদুল হালিম চৌধুরী, ইব্রাহিম আজাদ, প্রশাস্ত ঘোষাল, জাকারিয়া কাজল, আলী মামুদ, সালিম সামাদ, ড. আর এম দেবনাথ, খন্দকার গোলাম আজাদ, এ এস এম হাবিবুল্লাহ, গোলাম কিবরিয়া, তালুকদার হারুন, কবি আল মুজাহিদী, শাহেদ কামাল, মোহাম্মদ শাহজাহান, মৃণাল কৃষ্ণ রায়, নূরুল হাসান খান, রফিক উল্লাহ শিকদার, খালেদ হায়দার, কাজিম রেজা,আমিরুল মোমেনীন ও তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
প্রয়াত সদস্যদের স্মৃতিচারণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন ‘আজ আমাদের জন্য বেদনার দিন। মন খারাপের দিন। গত এক বছরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ২৩ জন সদস্য চিরকালের জন্য আমাদের ছেড়ে গেছেন। তাদের এই প্রস্থানে কেবল জাতীয় প্রেসক্লাবেই শূন্যতার সৃষ্টি হয়নি, একই সঙ্গে আমাদের দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রায়ও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।’
দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের অনেক সদস্য জীবনের ওপারে চলে গেছেন নির্ভার হয়ে। তারা আমাদের জন্য রেখে গেছেন বেদনার ভার। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সাংবাদিকতার পাশাপাশি অনেকের মধ্যে ছিল অনেক গুণ, অনেক বিষয়ের অনন্য সৃজনশীলতা। তারা তাদের সেই গুণের আলোয় সমাজকে আলোকিত করেছেন। তরুণ প্রজন্মের সাংবাদিকেরা তাদের আদর্শে উজ্জীবিত হবে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ক্লাবের প্রয়াত সদস্যদের লেখনীতে দেশের সংবাদমাধ্যম সমৃদ্ধ হয়েছে। অনেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করে বিশেষ অবদান রেখেছেন। ক্লাবকে অনেকেই প্রকৃত পক্ষে ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাদের পদচারণায় ক্লাব মুখরিত থাকত। অনেকে ক্লাব পরিচালনায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ফলে তাদের চলে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের কাছে যেমন গভীর শোকাবহ, তেমনি ক্লাবের সকল সদস্যের কাছেও বেদনাদায়ক।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, প্রয়াত সদস্যদের মধ্যে অনেক ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক। তারা কেবল পেশাগত ক্ষেত্রেই বিশিষ্ট ছিলেন না, দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তরুণদের অনেক কিছু শেখার ছিল তাদের কাছে।
সভাপতির বক্তব্যে কবি হাসান হাফিজ বলেন, সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি ও ধারাবাহিক চর্চায় প্রয়াত সাংবাদিকদের অনেকই ছিলেন অগ্রসৈনিক। তাদের সুকৃতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখব। তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি ক্লাবের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাই। ক্লাব তাদের পাশে থাকবে। ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর প্রাক্কালে আমরা তাদের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।
আলোচনার পর জাতীয় প্রেসক্লাবের পেশ ইমাম মাওলানা মনিরুজ্জামানের পরিচালনায় প্রয়াত সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :