প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৭ অক্টোবর, ২০২৬

সুবর্ণচরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অবৈধ ইটভাটা, দুই লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুবর্ণচর উপজেলায় কৃষিজমিতে অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন ও ইট তৈরির জন্য কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার দায়ে এ.কে.বি ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ইটভাটার মালিক মো. আকবর হোসেনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের চর পানাউল্লাহ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণচর উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা ১৩টি। এর মধ্যে কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন এবং ইটের কাঁচামাল প্রস্তুতের জন্য কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগে এ.কে.বি ব্রিকস ফিল্ডে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভাটার মালিক মো. আকবর হোসেনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে অবৈধভাবে স্থাপিত ইটভাটাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের যমুনা ব্রিকসে অভিযান চালানো হয়। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় ওই ইটভাটাটিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা এবং কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। কেউ আইন অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি যাতে ইটভাটার কাঁচামাল সংগ্রহ কিংবা ভাটা স্থাপনের কাজে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

অভিযানটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইনের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রায়হান মোর্শেদ, চরজব্বর থানা-পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরজব্বরে তাহেরা ব্রিকস, দক্ষিণ চরকচ্চপিয়ায় মুক্তা ব্রিকস, চরবাগ্যায় আল্লাহর দান ব্রিকস, পশ্চিম চরজব্বরে মাহিন ব্রিকস, চর আমান উল্যাহ এলাকায় রোহান ব্রিকস, চরজব্বরে জহুরা ব্রিকস ও পপুলার ব্রিকসসহ আরও ১১ ইটভাটা অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, প্রতিবছর দু-একটি ইটভাটায় নামমাত্র অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও বছরের বাকি সময়জুড়ে এসব ইটভাটার কার্যক্রম চলতে থাকে। ফলে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা, ফসলি জমির ক্ষতি এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর