প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫

সুবর্ণচরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কামাল উদ্দিন, সুবর্ণচর : জেলার সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত আহবায়ক বেলাল হোসেন সুমনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সই জাল করে একটি প্রকল্প বিল আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক প্রতারণার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলার চর আমানউল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। এই ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে আয়োজক কমিটি, স্থানীয় জনগণ এবং স্কুল থেকে অর্থ সহায়তা নিয়ে মাঠ ভরাটের কাজ শুরু করে কিন্তু পুরোপুরি কাজ সমাপ্ত করার জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে সহায়তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি আবেদন জমা দেয়া হয়। তিনি অত্র উপজেলা থেকে চলে যাবার পূর্বে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিলটির প্রাথমিক অনুমোদন করে যান। পরবর্তীতে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া আক্তার লাকি বিলটি চেক আকারে হস্তান্তর করেন। কিন্তু বিল গ্রহণের জন্য যে পরিকল্পনা কমিটি জমা দেয়া হলো, সেখানে প্রধান শিক্ষকের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্থানীয় কৃষক হেদায়েত উল্যাহকে স্থানীয় মসজিদের ইমাম হিসেবে উপস্থাপন করে বিলটির অনুমোদন নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র মজুমদার বলেন, গত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল আমিন সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমি গত বছরের ৬ অক্টোবর মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দ চেয়ে একটি আবেদন জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি উপজেলা থেকে স্থানান্তরিত হওয়াতে এই বিষয়ে আর খোঁজখবর নিতে পারিনি। গত ৩১ ডিসেম্বর জানতে পারি আমাদের স্কুলের নামে একটি ২ লাখ টাকার চেক ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু চেকটি পাস করানোর জন্য আমাকে ৭ সদস্যের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে রাখা হয়েছিল এবং আমার সই জাল করে বিলটি পাশ করা হলো অথচ বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। এই বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ জমা দিয়েছি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি, ইউপি সদস্য ডা. আবুল কালাম বলেন, আমাকে প্রকল্প কমিটির সভাপতি করা হয়েছে তা জানি এবং আমার নামে উপজেলা থেকে একটি চেক ইস্যু করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে আমি তা প্রকল্পের সেক্রেটারি বেলাল হোসেন সুমন মেম্বারকে দিয়ে দিলাম, এর বেশি কিছু আমি জানি না।

প্রকল্প সদস্য হেদায়েত উল্যাহ বলেন,আমি খেলা কমিটির সাথে যুক্ত ছিলাম, তাই আমাকে সুমন ভাই উপজেলার আবেদন প্রকল্পে স্বাক্ষর করতে বলছে, আমি তাই করছি।মসজিদের ইমাম হিসাবে রাখার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “আসলে আমি সাধারণ কৃষক মানুষ, মসজিদের ইমামের বিষয়টা আমি জানতাম না।”

এই বিষয়ে যুবদল নেতা বেলাল হোসেন সুমন বলেন, আমি যে বিলটি পাস করিয়েছি ওর একটি অংশ আমি স্কুল মাঠ ভরাটের কাজে দিয়েছি বাকি একটি অংশ স্থানীয় মন্দিরের উন্নয়ন তহবিলে ব্যয় করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে স্কুলের মাঠ ভরাট হয়েছে কী না তা তদন্ত করলে দেখতে পাবেন। স্থানীয়ভাবে আমার জনপ্রিয়তা কমানোর জন্য একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।

আরও পড়ুন

  • সুবর্ণচর এর আরও খবর