• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১৬ মে, ২০২৫

হাতিয়ায় পশু খামারীদের ভালো দামের প্রত্যাশা

সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাতিয়ার গরু খামারীরা। প্রাকৃতিক খাদ্য ও দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণে দিনরাত নিবিড় পরিচর্যা করে যাচ্ছেন। সুস্থ ও সবল রাখতে পশুদের নিয়মিত গোসল করানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করছেন।

বাজারে দেশীয় জাতের প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা গরুর চাহিদা বেশী হওয়ায় খামারিরা তাদের পশুদের পরিচর্যায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছেন। প্রত্যাশা যাতে কোরবানির হাটে ভালো দাম পাওয়া যায়।

তবে, খামারিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করলে তাদের লাভের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তারা সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, যেন ঈদের সময় ভারতীয় গরু আমদানি সীমিত রাখা হয়।

হাতিয়ার খামারিরা আশাবাদী যে, ঈদের সময় তাদের পশুগুলো ভালো দামে বিক্রি হবে এবং তারা তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবেন। খামারিরা গরুদের শুকনো খড়, কাঁচা ঘাস, খৈল, ভূষি ইত্যাদি প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে মোটাতাজা করছেন। তবে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা কিছুটা চাপের মুখে রয়েছেন খামারীরা। তারা আশা করছেন, কোরবানীর হাটে ভালো দাম পেলে এই চাপ কিছুটা কমবে।

নূর এগ্রোফার্মের মালিক খোন্দকার সোহেল বলেন, হাতিয়ায় আমরা যারা ক্ষুদ্র খামারি আছি, আশাবাদি ঈদে গরু বিক্রয় করে ভালো দাম পাবো। তবে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, বিদেশী গরু যেনো চোরাই পথে বাংলাদেশ না আসে। এবং আশে পাশের দেশ থেকে গরু আমদানি না করে। তাহলে আমরা যারা ক্ষুদ্র খামারী বা ব্যবসায়ীরা সবাই লাভবান হব। দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে।

খাদিজা এগ্রোফার্মের পরিচালক নেছার উদ্দিন দিলদার বলেন, হাতিয়ায় যারা গরু খামার করতেছে, তাদের কে যদি সরকার সহযোগিতা করে তাহলে, গরু মহিষ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, খামারও বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান বাড়বে দেশের বেকারত্ব কমবে, আমার খামারে বর্তমানে গরু মহিষ আছে, তাদের দেখা শুনা ও পরিচর্যা করার জন্য চার পাঁচ জন কাজ করে। এই ভাবে হাতিয়ায় বড় বড় খামার গড়ে তোলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরনের উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানাই।

জিমি এগ্রোফার্মের নজরুল ইসলাম বলেন, হাতিয়ায় বহু খামার মালিকেরা বর্তমানে লোকসানে আছেন, গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। আট শত টাকার খাদ্য এক হাজার ৩০০ টাকা, ভূসির বস্তা আটার শত টাকা, বিভিন্ন প্রকার গরুর রোগ থাকে ওষুধ খরচ, ডাক্তার খরচ সব ক্ষেত্রে দাম বেডছে। সরকারি পশু হাসপাতাল থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফোন করলে চার পাঁচ দিন পর আসে। হাসপাতালেও নাকি লোকজন কম। এজন্য সব জায়গায় যেতে পারে না।

হাতিয়া উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা বলেন,হাতিয়ায় ৫৯ টি খামার আছে তার মধ্যে ১৬ টি নিবন্ধিত , হাতিয়ায় এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় বেশি। উপজেলায় প্রায় ১৭৯৪৪টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে চাহিদা ১৫২১০টি। ফলে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ১১০৪টি পশু।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর