• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২১ এপ্রিল, ২০২৬

এমপির এলাকায় পাউবো’র বেড়িবাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ :
নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের নিজ এলাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ছোটধলী বেড়িবাঁধ পূননির্মানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদানের স্বেচ্ছাচারিতা সাধারণ মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ায় ফুঁসে উঠেছে ওই এলাকার জনসাধারণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ছোটধলী বেড়িবাঁধ পূননির্মান প্রকল্পের কাজ চলমান| ঠিকাদার ইব্রাহিম খলিলের স্কেভেটর মেশিনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কাজ করছে। কিন্তু বাঁধ নির্মানের নামে চলছে জনবির্ধ্বংসী ও ˆজব ˆবচিত্র ধ্বংসের মহাযজ্ঞ।

ভুক্তভোগী স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বাঁধ পূননির্মানের নামে কোনো সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেনা। বিলীন করা হচ্ছে, বসতবাড়ী, বাগান, ফসলী জমি, কবরস্থানসহ নানা স্থাপনা। এমনকি জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ নিরসনে সরকারি ভাবে সৃজিত ওই বেড়িবাঁধের দু’পাশের শত বছরের পুরাতন শতশত তাল বৃক্ষসহ অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছ।
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপজেলায় মুছাপুর ইউনিয়নে জলবায়ু পরিবর্তন ও বন্যায় জলোচ্ছ্বাস থেকে ফসলী জমি, পরিবেশ ও পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলামের নিজ এলাকায় ছোট ধলী বেড়িবাঁধ পূন নির্মানে ৮শ মিটার পূননির্মানে প্রায় ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এলাকার কাউকে অবহিত না করে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহজাহান বেড়িবাঁধ কাজের উদ্বোধন করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা আবদুর রহিম, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী মাঈন উদ্দিন মাষ্টার, মাষ্টার আবু নাছের, নুরুল আলম জিকু, আবদুল মোতালেব মঞ্জু একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার সম্পূর্ণ অনিয়মের মধ্যে বাঁধ পুননির্মানের নামে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত ও জনদূভোঁগ বাড়াচ্ছে| আসন্ন বর্ষা মৌসুমেই এ বাঁধ ধসে পড়বে।

বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ভুক্তভোগী ৫নং ওয়ার্ডের সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ আমিন উল্যাহ, একই এলাকার ষাট বছর বয়সী বৃদ্ধ আবদুস শুক্কুর অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নিজের পুকুর সেচ করে দেয়ার কথা বলে ২হাজার টাকা ও দূর থেকে মাটি নিয়ে বাঁধ নির্মানের কথা বলে ঠিকাদারের লোকজন ৭হাজার টাকা আদায় করে নিয়েছে। আরেক গ্রামবাসী কান্না বিজড়িত কন্ঠে বলেন, অনেক অনুনয় বিনয় করেও আমার সন্তানদের কবরস্থান রক্ষা করতে পারিনি। এছাড়াও বেড়ি বাঁধের আশপাশের বসবাসকারী অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার ইব্রাহীম খলিল তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়মানুযায়ী বাঁধটি পুননির্মান কাজ চলমান রয়েছে| তবে পাউবো’র কি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছেন জানতে চাইলে, তিনি তৎসংক্রান্ত কোন প্রমাণক পত্র উপস্থাপন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম রেফাত জামিল বাঁধ পুননির্মানে অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছোট ধলী বেড়ি বাঁধ পুনঃনির্মান কাজ চলমান রয়েছে। আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীগণ সরেজমিনে অনিয়ম দেখেছেন। ঠিকাদারকে বিধি মোতাবেক বাঁধের নিরাপদ দূরত্ব থেকে বা অন্যত্র স্থান থেকে মাটি নিয়ে বাঁধ নির্মাণ, বাঁধের যে সকল ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে অনিয়ম করে মাটি নেয়া হয়েছে, সে সব স্থান পুনঃরায় পূর্বাবস্থায় মাটি নিয়ে পূর্ণ করে দেয়া এবং কার্যাদেশ মোতাবেক কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে| এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর