নিহতরা হলো, উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের হোসেন সর্দার বাড়ির মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের ছেলে মো.জিসান (৯) এবং একই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে রাহাত হোসেন (১২) । মো. জিসান পূর্ব চর বাটা হাজী বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ও রাহাত চরবাটা ইসমাইলিয়া দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার ৭ নং পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন ১নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর গ্রামে আস্তানা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাগর জানান, সকালে মক্তবে পড়তে মসজিদে যায়। মসজিদে যাওয়ার পর মক্তবের শিক্ষক( ঐ মসজিদের ইমাম) রাহাত, জিসান,সাগরসহ তিনজন ছাত্রকে মসজিদের ছাদের উপরে গাছের ছোট ঢালপালা ও ছাদে জমে থাকা পাতা কুড়াতে বলেন। পরে সিঁড়ি না থাকায় আম গাছ বেয়ে মসজিদের ছাদে উঠে। পাতা কুড়ানোর এক পর্যায়ে রাহাত ১১ হাজার বিদ্যুতের তারে হাত লেগে আটকে যায়। তাকে ধরতে গিয়ে জিসান ও তারে আটকে পড়া দেখে সাগর লাফ দিয়ে গাছ বেঁয়ে নিচে নেমে ইমামকে অবহিত করলে তিনি ফোন করে বিদ্যুৎ বন্ধ করতে বলেন।বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার পর তাদেরকে মসজিদের ছাদ থেকে নামানো হয়
স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন জানান,নিহত দুই শিশু একই বাড়ির। তাদের পাশাপাশি ঘর।তারা সম্পর্কে মামা-ভাগিনা ছিল। মসজিদের ছাদ ঘেঁষে যাওয়া তারে জড়িয়ে শিশু গুরুত্বর আহত হয়। একপর্যায়ে তারা নিচে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে।
সুবর্ণচর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপব্যবস্থাপক মো আফজাল হোসেন বলেন, মসজিদ নির্মাণের অনেক আগেই বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। মসজিদ কমিটি থেকে বৈদ্যুতিক লাইন ঝুঁকিপূর্ণ বলে কোন ধরনের আবেদন করেন নি।
এদিকে এ ঘটনায় নিহতের পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং নিহতের গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :