
উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, আমাদের অর্থ-সম্পদ ও পরিশ্রমে গড়ে ওঠা ভাসানচর নোয়াখালীর এবং এটি নোয়াখালীরই থাকবে। প্রয়োজনে এ দাবির পক্ষে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যাবো।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় গঠিত একটি কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে ভাসানচরকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্গত উল্লেখ করা হয়েছে—এমন খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি এসব কথা বলেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, ২০১৭ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাসানচর স্পষ্টভাবে হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। এরপর হাতিয়ার অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে দ্বীপটিকে বসবাসযোগ্য করে তোলা হয়েছে। বন বিভাগ বনায়নের মাধ্যমে দ্বীপকে রক্ষা করেছে এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এমন বাস্তবতায় হঠাৎ করে অন্য কেউ এসে দ্বীপের মালিকানা দাবি করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কারণ দেখিয়ে ভাসানচর সন্দ্বীপের অংশ হিসেবে দিতে চায়, তবে নোয়াখালীকে আগে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যথায় কোনোভাবেই এই দ্বীপ হস্তান্তর মেনে নেওয়া হবে না।
এনসিপির এই নেতা জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিবেদনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এ বিষয়ে আদালতের রায় ছাড়া নতুন কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে আমরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। আমাদের মাটি আমাদেরই থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৯৬০-এর দশকে ভয়াবহ নদীভাঙনে হাতিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়। সেই প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা ভাসানচরকে হাতিয়ার স্বাভাবিক ভৌগোলিক সম্প্রসারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১০ সালে দ্বীপটি দৃশ্যমান হলেও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এটি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে এবং সরকারি জরিপে হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হয়।
বর্তমানে ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসহ সব ধরনের প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নোয়াখালীর মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যমান গেজেট ও প্রশাসনিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে ভাসানচরকে সন্দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে নোয়াখালী ও রাজধানীতে ‘ভাসানচর রক্ষা আন্দোলন’ অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :