
উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া :
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও চরম আর্থিক সংকটে থমকে গেছে জুলাই শহীদ রিটনের শিশু কন্যা তানিশা বেগমের চিকিৎসা। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এই শিশুর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
জানা যায়, কয়েকদিন আগে ডায়রিয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তানিশাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে প্রথম দুই দিন শিশু ওয়ার্ডে কোনো শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান করতে হয় তাকে। পরে একটি শয্যা মিললেও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পথ্যের অভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম ঠিকভাবে এগোচ্ছে না।
তানিশার পিতা শহীদ রিটন জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তিনি ঢাকায় একটি মুদি দোকানে চাকরি করতেন এবং তার পাঠানো টাকাতেই চলত পরিবারের জীবন-জীবিকা। স্বামীকে হারানোর পর থেকেই চরম মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।
বর্তমানে তারা হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ২২ নম্বর গ্রামে বসবাস করছেন। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমান চন্দ্র আচার্য জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয় এবং তখন তার অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে নিয়মিত ওষুধ ও সঠিক পরিচর্যা না পেলে ঝুঁকি থেকেই যায় বলে জানান তিনি।
শিশুটির মামা জুয়েল বলেন, “চার দিন ধরে আমরা হাসপাতালেই আছি। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় বোন নিজেই অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে এসেছে। আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে পাশের একটি দোকান থেকে বাকিতে কিছু ওষুধ এনে দিতে হয়েছে। টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছি না।
শহীদ রিটনের স্ত্রী ও তানিশার মা আফসানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সবাই এখন নির্বাচন আর রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে। খাবার কিনলে ওষুধ কেনা যায় না, আবার ওষুধ কিনলে খাবার জোটে না।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আমাদের নিয়ে সবাই রাজনীতি করে। জুলাই শহীদদের পরিবারের জন্য অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে আমরা কিছুই পাইনি। অসুস্থ শ্বশুর-শাশুড়ি আর ছোট সন্তান নিয়ে সংসার চালানো এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালের একটি বিছানায় শুয়ে থাকা ছোট্ট তানিশার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন উঠছে— জুলাই শহীদদের পরিবারের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কি তবে শুধু কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
আপনার মতামত লিখুন :