
উপজেলা প্রতিনিধি চাটখিল :
জেলার চাটখিল উপজেলায় জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত কয়েক দিনে আশংকাজনক হারে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।।
সাথে চলছে সংঘর্ষ, মালামাল ও নগদ টাকা লুট ও ভাংচুরের ঘটনাও ঘটছে। এ সব সহিংস ঘটনায় এখানে এক যুবক পিঠিয়ে হত্যা করে লাশে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নারী, শিশু, শিক্ষার্থীসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। এতে জন মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে ১ পৌরসভা ও ৯ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ থানায় বাড়ি থেকে নিখোঁজের ৩ দিন পর ৫ এপ্রিল (বরিবার) রাতে পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের আলি পাটোয়ারী বাড়ীর ফারুক হোসেনের ছেলে দিন মজুর খোকন (৩২) এর গলিত লাশ মন্ত্রীর পোল সংলগ্ন ঝোপ থেকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। দুবৃর্ত্তরা খোকনকে হত্যার পর লাশে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে এলাকাবাসী মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ এবং আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই ভাবে গত ৬ই (সোমবার) এপ্রিল বিকেলে পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের রিয়াদ হোসেনের ছেলে ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীর সাজেদুল ইসলাম রাফসান (৭) কে একা পেয়ে তার গলাচেপে ধরে পরে ধারালো ছুরি দিয়ে পেটের বাম পাশে আঘাত করে গুরুত্ব আহত করে। ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ছোটজীব নগর গ্রামের আলাউদ্দিন বেপারী বাড়ীর পাইপ মিস্ত্রি শহীদের ঘরে স্থানীয় সন্ত্রাসী হিমনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন কিশোর গ্যাং হামলা করে। শহীদের স্ত্রী আসমা বেগম (৪৬) ও তার শিশু কন্যা সায়েমা আক্তারকে গুরুত্ব আহত করে।
১ এপ্রিল (বুধবার) সকালে পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ৯নং লামচর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার তালতলা বাজারে ব্যবসায়ী জালাল আহমেদ (৬৫) বাড়ী থেকে বাজারে যাওয়ার সময়ে দুর্বৃত্তরা হামলা করে আহত করে তার বাড়ী ভাংচুর ও নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকালে পরকোট ইউনিয়নের মেকরার চর গ্রামের পালের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা ঠিকাদার হোসনকে (৫০) গুরুত্ব আহত করে। ৩ এপ্রিল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় দূর্বৃত্তদের হামলায় মোহাম্মদপুর কালীরহাট বাজারে জসিম উদ্দিন (৫৬) গুরুত্বর আহত হয়। তাছাড়া দুর্বৃত্তদের হামলায় রামনারায়নপুর গ্রামের আসাদুল আমিন মিঠু (৩৬), নাহারখিল গ্রামের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় যুবদল নেতা হিরন (৪২), নোয়াখোলা গ্রামের আব্দুল মতিন (৪৮) গুরুত্বর আহত হয়। ২ গ্রুপের সংঘষে খিলপাড়া বাজারে মামুন মোল্লা (৪৬) ও নিরব (২২)। অনূরূপ ঘটনা ঘটেছে বদলকোট ও মোহাম্মদপুরে।
এ সব ঘটনায় নির্যাতিতরা থানায় অভিযোগ করলে থানা পুলিশ এগুলো আমলে না নিয়ে তদন্তের নামে এলাকায় গিয়ে স্থানীয় মাতব্বর দিয়ে শালিস করানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে করে নির্যাতিতরা আরো হয়রানী শিকার হচ্ছে এবং সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সব সহিংতার ব্যাপারে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ জানান, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ সমূহের সত্যতার প্রমাণ পাওয়ার সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :