• ঢাকা
  • বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১২ এপ্রিল, ২০২৬

দুই বছর নিষিদ্ধ মাবিয়া, আক্ষেপ করে বললেন— ‘সব দোষ এখন আমারই’

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক এবং এসএ গেমসে টানা দুইবারের স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।

সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশন (সারাদো) ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির (ওয়াদা) কোড অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

শাস্তির পর হতাশা ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মাবিয়া। তার দাবি, তিনি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মেনেই ওষুধ সেবন করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানিয়েছিলেন।

জানা গেছে, গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শুরুর আগে মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনায় নিষিদ্ধ ‘ডাইইউরেটিক্স’ (Diuretics) নামক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ডাইইউরেটিক্স মূলত এমন এক ধরনের ওষুধ, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করে দেয় (যাকে ওয়াটার পিলস বলা হয়)। এটি দ্রুত ওজন কমাতে সহায়ক হলেও খেলাধুলায় এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ এটি অন্য নিষিদ্ধ উপাদান লুকানোর জন্য ‘মাস্কিং এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করতে পারে। ভারোত্তোলনের মতো ওজনভিত্তিক খেলায় এর ব্যবহার অত্যন্ত সংবেদনশীল।

গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে মাবিয়াকে দুই বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ও প্রতিযোগিতামূলক সব ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশ্যে আসার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মাবিয়া। জানান, অসুস্থতার কারণে যে ওষুধ খেয়েছিলেন সেটির প্রেসক্রিপশন তার কাছে রয়েছে। আক্ষেপ করে বলেন, ‘এখন আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সব দোষ আমারই হবে। কিন্তু এতদিন যাবত সব সেমিনারে আমাদেরকে বলা হয়েছে, ‘নাপা বা যে কোনো ওষুধ যেটাই খাও, আমাদেরকে প্রেসক্রিপশন দেখাবে; প্রেসক্রিপশন থাকতে হবে।’ এর বেশি কিছু কোনো সেমিনারে আমাদের বলা হয়নি। তো আমি যে ওষুধ খেয়েছি বা আমি যে মেডিকেশনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি তার সবই সকলে জানতো। সবকিছুর প্রেসক্রিপশন আমার কাছে আছে। কিন্তু এখন যেহেতু শাস্তি হয়ে গেছে, এখন তো সব দোষ আমারই হবে।’

কর্তৃপক্ষকে প্রেসক্রিপশন না দেখানোর অভিযোগও নাকচ করেছেন এই তারকা ভারোত্তোলক। তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসক্রিপশন দেখাইনি এমনটা বলা হচ্ছে। তবে আমি প্রেসক্রিপশন দেখিয়েছি। শফিক সাহেব এখন বলছেন আমি প্রেসক্রিপশন দেখাইনি। কিন্তু আমি তাঁকে প্রেসক্রিপশন দেখিয়েছি।’

আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ডোপিং বিধি অনুযায়ী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে মাবিয়ার। আপিলের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি খুব বেশি অবগত না হলেও, ১৪ দিনের মধ্যেই আপিল করার কথা জানিয়েছেন, ‘আপিলের বিষয়ে আমি আসলে জানিনা, আপিল কিভাবে করতে হয় সেটাও আমি জানিনা। তবে আমি সব খোঁজ খবর নিচ্ছি, আমি আপিল করবো। সময় কম, ১৪ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। প্রয়োজনে মার্সি (ক্ষমা) চেয়ে আপিল করতে পারি।’

মাদারীপুরের মেয়ে মাবিয়া আক্তার সীমান্তের ক্যারিয়ার কখনোই খুব মসৃণ ছিল না। চরম দারিদ্র্য ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই ভারোত্তোলক ২০১৬ সালের এসএ গেমসে (৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে) স্বর্ণ জিতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন। এরপর ২০১৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসেও তিনি স্বর্ণ জেতেন এবং টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন।

২৬ বছর বয়সি দেশের এই শীর্ষ ভারোত্তোলকের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা ক্যারিয়ারের জন্য এক বিশাল অশনিসংকেত। এখন তিনি আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের নিষেধাজ্ঞা কমাতে পারেন কি না।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর