
উপজেলা প্রতিনিধি, সদর :
জেলায় হাম প্রতিরোধে বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫ লাখ ৫ হাজার ৩৫০ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেলে মাইজদীতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যান্য জেলার মতো নোয়াখালীতেও হাম রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৭৩ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এ পাঠানো নমুনা পরীক্ষায় ৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৯টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা, ৯১টি ইউনিয়ন, ২৭৯টি ওয়ার্ডসহ ১৩৮৫টি স্কুল ও ১৪৮০টি মাদরাসার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন ২২৪১ জন টিকাদানকারী এবং ৪ হাজার ৪৮২ জন স্বেচ্ছাসেবক।
সিভিল সার্জন বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।কোনো শিশু যেন টিকার বাইরে না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সিভিল সার্জন বলেন, গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাব এড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। টিকা নিয়ে ভুল ধারণার কারণে অনেক শিশু টিকাবঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পৌরসভায় টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারেও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ কর্মসূচি সফল করতে ২ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবককে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের অধিকাংশের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং এ পর্যন্ত নোয়াখালী জেলায় হাম আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
আপনার মতামত লিখুন :