প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ১২ নভেম্বর, ২০২৩

সোনাপুর সুবর্ণচর সড়কের বেহাল দশা দুর্ঘটনায় ঝরছে প্রাণ!

সুবর্ণচর থেকে কামাল চৌধুরী : সোনাপুর থেকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ যেতে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কটির বেশিরভাগ জায়গায় ছোট বড় অসংখ্য গর্ত হয়ে আছে। রাতের বেলায চলাচলের সময় মাঝেমধ্যে মনে হয় যেন রাস্তা নয় পুকুর-খাল-নদী পার হচ্ছি। এক সাক্ষাতকারে বাস চালক ও যাত্রীরা জানান, প্রায় সময় ঘটছে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা! যদিও প্রতিমাসে সড়কটিতে দুর্ঘটনায় আহত-নিহতের সংখ্যা নিদিষ্ট করে হিসাব রাখা কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নোয়াখালী সদর দক্ষিণ, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনাপুর থেকে সুবর্ণচর হয়ে হাতিয়ার বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাটের দূরত্ব প্রায় ২৩ কিলোমিটার। এরমধ্যে প্রায ১৬ কিলোমিটার রাস্তাই ছোট, বড় ও মাঝারী গতর্, যার মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তাই সুবর্ণচর অংশে। প্রায়ই এ রাস্তায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা সংবাদ শিরোনাম হয়।

গত কয়েক দিন আগে সুবর্ণচরের চরওয়াপদা ইউনিয়নের আল আমিন বাজারে গেলে সেখানকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনেও অতি গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ী মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, রাস্তা খারাপের কারণে তাদের আল-আমিন বাজারে কোনো গাড়ি যেতে চায় না। গেলেও দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয়। অনেক সময় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও মালামাল নিতে পারছে না তারা। কারন অনেক সময় গর্তে পড়ে গাড়ি এবং মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে চৌমুহনী থেকে গ্লাস আনার সময় তার মূল্যবান তিনটি গ্লাস ভেঙে গেছে। এতে তার প্রায় নয় হাজার টাকার মত ক্ষতি হয়েছে। এভাবে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে তাদেরকে মালামাল পরিবহন করতে হয়।

ছাত্র-ছাত্রীদের ভোগান্তির কথাতো বলাই বাহুল্য। এ সড়কের দু’পাশে একাধিক কলেজ সহ কেজি স্কুল, সরকারি-বেসরকরি প্রাইমারী স্কুল, হাইস্কুল ও মাদ্রাসা মিলে প্রায় ডজন খানেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাতে করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। মাদ্রাসা ছাত্র মোঃ নাঈম জানান, আগে তাদের মাদ্রাসার ভ্যান গাড়ি থাকলেও রাস্তা খারাপের কারণে সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। রিকশা ভাড়াও প্রচুর তাই দীর্ঘ পথ হেঁটে মাদ্রাসা যেতে হয়।

চরওয়াপদা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ ওমর ফারুক জানান, রাস্তায় গাড়ি চালানো দায় হয়ে পড়েছে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে পাশের রাস্তা দিয়ে ১৩-১৪ কিলোমিটার পথ ঘুরে চেয়ারম্যান ঘাট যেতে হয়। এতে ৫০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা দিতে হয়।
মাছ ব্যবসায়ী হেঞ্জু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ রাস্তা সংস্কারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর উদাসীন। অনেকে আবার এ ব্যাপারে নোয়াখালী সরকার দলের চলমান আলোচিত রাজনৈতিক মেরুকরণকেও দায়ী করেন। সবমিলিয়ে এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

চরওয়াপদা ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অতি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। তিনি এ রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরে এনেছেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদের (সওজ) নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহাদ উল্যাহর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাস্তাটি এলজিইডি থেকে সওজ বিভাগে নতুন করে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা ‘ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল (ডিপিপি)’ তৈরি করেছি। সেটি পাস হয়ে আসলে সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন

  • সুবর্ণচর এর আরও খবর