
উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জে চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে আসা ৩ জোড়া তরুণ-তরুণীকে অপহরণ করে শ্লীলতাহানি ও ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৪ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে মূল হোতা সজীব ও ইমনসহ পলাতক ৪ আসামিকে গ্রেফতারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ ও মামলার সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পালিয়ে আসা ৩ জোড়া তরুণ-তরুণী গত ১৪ মে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রামে আশ্রয় নেয়। তারা পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন।
গত ১৬ মে শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বখাটে সজীব, ইমন, রবিন ও সুজনের নেতৃত্বে একদল যুবক ওই বাসায় হানা দেয়। পরে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৬ জনকে তুলে নিয়ে গহিরার দিঘি সংলগ্ন একটি নির্জন বাগানে জিম্মি করে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তিন কিশোরীর শ্লীলতাহানি করা হয়। একই সঙ্গে অপহৃতদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে জনপ্রতি ৩ লাখ টাকা করে মোট ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাদের হত্যা করে লাশ গুমের হুমকিও দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চার অপহরণকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে এবং জিম্মিদশা থেকে ৬ তরুণ-তরুণীকে উদ্ধার করে। তবে মূল হোতাসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, মামলার বাদী তানজু আক্তারসহ উদ্ধার হওয়া ৩ কিশোরীকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শাহজাদপুর গ্রামের আবদুল হাই সাহেদ, ইয়াকুব, সাদ্দাম হোসেন ও আনোয়ার হোসেন। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর শাহজাদপুর গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন :