• ঢাকা
  • সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৬ জুন, ২০২৬

সেনবাগের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জিতলে গরু জবাইয়ের ঘোষণা

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম শায়েস্তানগরী, সেনবাগ : প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মাইল দূরের দেশ আর্জেন্টিনা। দিয়াগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির সেই দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই এবার ব্যতিক্রমী ঘোষণা দিয়েছেন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৩ নম্বর ডমুরুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও ফুটবলপ্রেমী আবুল কালাম আজাদ মেম্বার। তিনি জানিয়েছেন, লিওনেল মেসির হাত ধরে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে একটি বড় গরু জবাই করে এলাকার ফুটবলপ্রেমীদের নিয়ে ভোজের আয়োজন করবেন।

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা ঘিরে যখন সারাদেশের মতো সেনবাগেও বাড়ছে আলোচনা-উত্তেজনা, তখন আর্জেন্টিনা দলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কারণে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন আজাদ মেম্বার। তিনি ইতোমধ্যে নিজের দোকানঘর, টিনের বেড়া, গাছপালা ও আশপাশের এলাকা আকাশি-সাদা রঙে সাজিয়ে তুলেছেন। বাড়ির ছাদেও টানানো হয়েছে বিশাল আকৃতির আর্জেন্টিনার পতাকা।

সরেজমিনে ডমুরুয়া ইউনিয়নের জিরুয়া গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই আজাদ মেম্বার আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়াগো ম্যারাডোনা ও বর্তমান তারকা লিওনেল মেসির একনিষ্ঠ ভক্ত। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের সময় এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় মাইলের পর মাইল হেঁটে দূরে গিয়ে খেলা দেখতেন তিনি। সেই আবেগ থেকেই এবারও বিশ্বকাপ সামনে রেখে পুরো এলাকাকে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে সাজিয়ে তুলেছেন।

আজাদ মেম্বার বলেন, “আর্জেন্টিনা শুধু একটা দল নয়, এটা আমার আবেগ। গত বিশ্বকাপে মেসি আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এবারও ট্রফি আমাদের ঘরেই আসবে ইনশাআল্লাহ। আর সেই আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেই আমি একটি বড় গরু জবাই করব এবং এলাকার সব ফুটবলপ্রেমীদের নিয়ে একবেলা ভোজের আয়োজন করব।”

তিনি আরও বলেন, তার অনেক দিনের ইচ্ছা বিশ্বকাপের অন্তত একটি ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখা। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্যের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তাই পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বিক্রির কিছু টাকা ব্যয় করে এলাকায় বড় পরিসরে খেলা দেখার আয়োজন করছেন তিনি।

আজাদ মেম্বারের দুই ছেলে ইকবাল হোসেন হৃদয় চৌধুরী ও বিজয় চৌধুরীও বাবার দেখাদেখি আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকে পরিণত হয়েছেন। তার এমন ব্যতিক্রমী ঘোষণার পর এলাকায় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকরা তার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এমনকি ব্রাজিলসহ অন্যান্য দলের সমর্থকরাও তার ফুটবলপ্রেম ও অতিথিপরায়ণতার প্রশংসা করেছেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর