• ঢাকা
  • শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৯ জুন, ২০২৬

জেলার সঙ্গীতাঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতা, না-ফেরার দেশে মোহাম্মদ শরীফ

নুশরাত রুমু, সদর : জেলার সঙ্গীতাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বরেণ্য সংগীত প্রশিক্ষক এবং মৌমাছি কচি-কাঁচার মেলার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ আর নেই। একইসঙ্গে তিনি একতা সাংস্কৃতিক একাডেমি ও জয়নুল আবেদীন মেমোরিয়াল একাডেমির সংগীত শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১২টা ২০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উডল্যান্ড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৬৫ বছর। তিনি দুই মেয়ে, এক ছেলে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

মরহুম মোহাম্মদ শরীফের মরদেহ জানাজার আগে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মৌমাছি কচি-কাঁচার মেলা প্রাঙ্গণে রাখা হয়। যে প্রাঙ্গণে তিনি বছরের পর বছর শিশু-কিশোর ও তরুণদের সংগীতের তালিম দিয়েছেন, সেই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী। এ সময় অনেকেই অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর স্মৃতিচারণ করেন।

বাদ জুমা মোহাম্মদ শরীফ এর নামাজের পর নোয়াখালী কোর্ট মসজিদ (মডেল মসজিদ) প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ী অংশ নিয়ে মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি নোয়াখালীর সঙ্গীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছে শত শত তরুণ শিল্পী, যাদের অনেকেই আজ জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। সংগীত শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ এবং ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত অমায়িক, উদার ও সবার কাছে প্রিয় একজন মানুষ।

তাঁর মৃত্যুতে মৌমাছি কচি-কাঁচার মেলা, নোয়াখালী শিল্পী সমিতি, নাগরদোলা ব্যান্ড এবং ‘গান ফড়িং’ পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

শোকবার্তায় তাঁরা তাঁকে জেলার সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পী গড়ার অন্যতম কারিগর হিসেবে অভিহিত করেন।

শোকাহত শিক্ষার্থীরা বলেন, “স্যার চলে গেলেও তাঁর শেখানো প্রতিটি সুর, প্রতিটি শিক্ষা ও সৃষ্টি আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।”

এদিকে তাঁর জানাজায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হারুনুর রশিদ আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মোহাম্মদ শরীফের প্রয়াণে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন তাঁর সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর