
নুশরাত রুমু, সিনিয়র প্রতিবেদক : জেলায় নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তবে সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক চাপ এবং বিচার পাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে এসব ঘটনার বড় একটি অংশ প্রকাশ্যে আসে না। ফলে প্রকৃত চিত্র সরকারি পরিসংখ্যান বা মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের চেয়েও ভয়াবহ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে হাতিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, আর জেলা শহর মাইজদীতে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলক কম।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, জেলায় প্রতিবছর গড়ে ৩০টিরও বেশি নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান হলে অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নানা কারণে বাধাগ্রস্ত হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই এই সাত মাসেই জেলায় ধর্ষণ ও ধর্ষণের অভিযোগে ১০টিরও বেশি ঘটনা সামনে এসেছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাতিয়ায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা আবদুর রহমানের নেতৃত্বে তিন ব্যক্তি ওই নারীর ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে জিম্মি করে ধর্ষণ করে।
এরপর ১২ মার্চ হাতিয়ার নলচিরা ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তালাকপ্রাপ্ত নারীকে মোটরসাইকেলে করে একটি তরমুজখেতের টংঘরে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
এপ্রিলে বেগমগঞ্জে ব্ল্যাকমেইল ও দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগে কুতুবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই মাসে শংকর চন্দ্র মজুমদার নামে আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন এক নারী।
৪ মে চৌমুহনীতে এক প্রশিক্ষণার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাফিক্স প্রশিক্ষক আলা উদ্দিন সাবেরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জুনে হাতিয়ার জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একই মাসের ২৭ জুন হাতিয়ায় অস্ত্রের মুখে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়।
সবশেষ ৬ জুলাই বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার ফুপাতো ভাই সাকিব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ এবং স্থানীয়ভাবে আপসের চাপের কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পান না।
অনেক পরিবার সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায় আইনি লড়াইয়ে না গিয়ে নীরব থাকেন। ফলে অনেক অপরাধই আড়ালে থেকে যায় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :