প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৭ জুলাই, ২০২৬

ক্ষমতার স্বার্থে সর্বনাশী মার্কিন চুক্তির বিষয়ে দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে নীরব: আনু মুহাম্মদ

নোয়াখালীর কথা ডেস্ক : সংসদের সব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে ঝগড়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া ‘দাসত্বমূলক চুক্তির’ বিষয়ে যেন ‘নীরবতার ঐক্য’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত গণজমায়েতে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিটি আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশনামা এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে।’

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে’ এ গণজমায়েতের ডাক দেয় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা জনগণকে জানানো হয়নি। মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা ৩২ পৃষ্ঠার দলিলটি পড়লে দেখা যায়, এটি কোনো চুক্তি নয়। বরং বাংলাদেশকে কী করতে হবে, তার একটি মার্কিন হুকুমনামা। এর ফলে প্রয়োজন বা দাম বিবেচনা না করেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন জিনিস বিনা শুল্কে আমদানি করতে বাংলাদেশ বাধ্য হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর কর ও ভর্তুকির বোঝা বাড়বে।’

দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দলগুলো নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে এই সর্বনাশী চুক্তির বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নীরব রয়েছে। ভারতের আধিপত্য ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন লাগবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বহুজাতিক করপোরেট স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন সবাই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।’

দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও জাতীয় সক্ষমতা রক্ষায় এই দাসত্বমূলক চুক্তি বাতিলের লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আনু মুহাম্মদ।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদ, সামিনা লুৎফা, মাহা মির্জা, সীমা দত্ত, বাংলাদেশ জাসদের নেতা মুশতাক হোসেন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন প্রমুখ। বামপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক, ছাত্র-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও দলের নেতা–কর্মীরা এতে অংশ নেন। আয়োজনে ছিল নাটক, গান ও আবৃত্তি পরিবেশনা। এসব পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে চলে বক্তৃতা।

গণজমায়েতে গান পরিবেশনা করে উদীচী, গানের দল সমগীত ও কোরাস। নাটক পরিবেশনা করে নাট্যদল প্রাচ্যনাট ও বিবর্তন। এছাড়া, কবিতা আবৃত্তি করেন তাহসিন রেজা, অনন্যা মাহমুদ এবং মাসুদ মনিরুল।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর