• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ১৩ অক্টোবর, ২০২৪

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ও প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান

আমাদের বাঘের ওজন কমে যাচ্ছে। সাইজে ছোট হওয়া শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। আবার, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করায় সুন্দরবনের বাঘের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া ও বাঘে বাঘে সংঘর্ষের কারণে নিজের এলাকা বা সীমানা (টেরিটরি) এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়ে প্রায় প্রতিবছর একাধিক বাঘ বন সংলগ্ন গ্রামগুলোতে এসে মানুষের হাতে মারা পড়ছে।…

সুন্দরবনে বাঘ ও শাবকের সংখ্যা বেড়েছে । ২০১৮ সালের তুলনায় চলতি বছরের জরিপে ১১টি বাঘ বেড়েছে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ২০১৮ সালের জরিপে ১১৪টি বাঘ পাওয়া গিয়েছিল। নতুন জরিপে পাওয়া গেছে ১২৫টি। সেই হিসাবে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ১১টি। প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব পাওয়া যায় ২ দশমিক ৬৪।

সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে তৃতীয় পর্যায়ে বাঘ জরিপ সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হয়। বাঘ জরিপে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা, খুলনা, চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জে চার ব্লকে ৬০৫টি গ্রিডে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা বসানো হয়। ২০২৩-২৪ সালের বাঘ জরিপে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাঘ শাবকের ছবি পাওয়া যায়। ২০২৩-২৪ সালের বাঘ জরিপে ২১টি বাঘ শাবকের ছবি পাওয়া গেছে। ২০১৫ ও ২০১৮ সালের বাঘ জরিপে পাঁচটি করে বাঘ শাবকের ছবি পাওয়া গিয়েছিল।

২০১০ সালে হাজার হাজার সেমিনার, সম্মেলন, কর্মশালার সেরা ছিল অন্তত নামে-ডাকে, ব্যঞ্জন-বাসনায় রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল টাইগার হেরিটেজ শীর্ষ সম্মেলন। বিশ্ব বাঘ দিবসের (২৯ জুলাই) নামডাক শুরু হয় এ সম্মেলন থেকেই। এই বিশ্ব বাঘ সম্মেলনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রত্যাশী পক্ষ হলো বিশ্বের সেরা গরান বন সুন্দরবনের সুন্দর মিয়ারা। সম্প্রতি সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা এবং এর প্রবৃদ্ধি ও পরিসংখ্যান প্রক্ষেপণ নিয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নেতৃত্বাধীন বাঘ, হরিণ ও কুমির সমিতি সংক্ষেপে বাবাহকুর পক্ষে সুন্দর মিয়ার প্রতিক্রিয়াপত্র ওরফে এক বিবৃতি দিয়েছে।

জানা যায়, ২০০৭ সালে সিডর এবং ২০০৯ সালে আইলার আক্রমণের শিকার সুন্দরবনের পশু, পাখপাখালী, মৎস্যমণ্ডলী নিজেদের আত্মমর্যাদা ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে সংগঠিত হয়ে বাবাহকু গঠিত হয়। লোকালয় নেতারা বন ও পরিবেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্বের সুস্বাস্থ্য, সামাজিক সুখ্যাতি, আত্মিক উন্নতি এবং বাস্তব বুদ্ধিবৃত্তিক বোধোদয়ের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে প্রার্থনা ও প্রত্যাশা করেছেন পশুসম্পদ জগতের বনেদি বংশীয় বর্ষীয়ান নেতা সুন্দর মিয়ার।

সুন্দর মিয়া বিবৃতি পাঠের জন্য ডাকা সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই কোনো ভণিতায় না গিয়ে বললেন, ‘আমি সুন্দর মিয়া বাবাহকুর প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং প্রধান। সম্প্রতি সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ও প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে যে খবর চাউর হয়েছে তাতে সচকিত, সন্ধিগ্ধ আমরা। আমাগো আজকের বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি গো’। বড় ভারী গলা, উচ্চারণ বাজখাই। আঞ্চলিক টান তো আছেই। ‘প্রথমে আমাদের পক্ষে হরিণা হাপান

(মঞ্চে তার পাশে বসা হরিণটির দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে) একটি লিখিত বক্তব্য দেবে, তার পর আপনাগো যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তালি তার জবাব দেবানে।’ সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সুন্দর মিয়া প্রশংসা করেন… ‘আমরা সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ জানাতি চাই দেশের সরকার ও জনগণকে, যারা সময়োপযোগী এই সংখ্যা প্রকাশ করেছেন আমাগো জন্যি।

মোটাসোটা সভার আয়োজন করেছেন শুধু আমাগো জন্যি। শুনে আমাদের মনটা জুড়িয়ে গেছে। শুনিছি ঠাণ্ডা প্যাচাল পার হবার পর দেশটা কেমন যেন মনমরা হয়েছেল, আজ সেখানে নেতৃবৃন্দ একসঙ্গে বয়েছেন সামনের বিশ বছরের মধ্যি আমরা যাতে দ্বিগুণ হতি পারি (সবাই করতালি দিল) তার জন্য সলাপরামর্শ করতি। দেশটা যেন জেগে উঠেছে গো। আমাগো আরও ভালো লাগত যদি আমরাও সশরীরে সেখানে হাজির হয়ে দুখান কথা বলতি পারতাম। যা হোক আমাদের প্রচার বিভাগের প্রধান হরিণা হাপান আমাগো বক্তব্যের বিভিন্ন দিক আগে তুলে ধরবে, সে সাম্প্রতিক সময়ের তিক্ত ও দুঃখজনক কিছু ঘটনার কথাও তুলে ধরবেনে, যা বুঝতি সাহায্য করবে কেন আমরা এরকম অবস্থায়।

এর পর আপনাগো সব প্রাসঙ্গিক, মার্জিত ও শুধুমাত্র দলমতনিরপেক্ষ প্রশ্নেরই জবাব আমরা দেব। শেষে আমরা আপ্যায়নের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী কিছু সামগ্রী উপহার দেবানে সবাইকে। আজকাল আপ্যায়নে অনেক অপচয় হয়, অনেকে খেয়েও বলে খাইনি, পেয়েও বলে পাইনি, অনেক জাগায় এ উপলক্ষ্যে মারামারিও হয় নাকি শুনিছি। আমরা আপ্যায়ন আনুষ্ঠানিকতার বিরোধী না, তবে যেম্মায় এটি করা হয় তার পন্থি না।’

হরিণা দাঁড়াবার আগেই বেশ সুদর্শন চার-পাঁচটি বিড়াল উপস্থিত সাংবাদিকদের হাতে একটা ফ্যাক্ট শিটের মতো মনে হলো, দিয়ে গেল। আজকাল এটা একটা চল হয়েছে যে সংবাদ সম্মেলনে আগে থেকেই লিখিত বক্তব্য সংবাদকর্মীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য দুটো হতে পারে (১) মিডিয়ার সামনে এক্সটেম্পোর বক্তৃতা দিতে অনেকে ভয় পান, কী বলতে গিয়ে কি বলে ফেলা হয় আর গণমাধ্যম মশায়রাও তা কীভাবে নোট করেন কে জানে, লিখিত দেওয়া থাকলে

যে বক্তব্য দেয় তারও সুবিধা আর সেই ডকুমেন্ট থেকে রিপোর্ট করতেও সুবিধা, (২) যারা রিপোর্ট লেখেন এক্সটেম্পোর বক্তৃতা থেকে তারাও তাড়াতাড়ি সব নোট করতে পারেন না, তাছাড়া মতাদর্শ অনুযায়ী একই বক্তব্য একেকজন একেকভাবে শোনে বা লেখে, সে ঝামেলা তো আছেই। এসব এড়াবার জন্য আজকাল শুধু সংবাদ সম্মেলন নয়, যেকোনো সভার প্রেস রিলিজ উদ্যোক্তারা আগেভাগে তৈরি করে মিডিয়ার হাতে দিয়ে দেন।

বাধাধরা পসন্দমতো মন্তব্য ও শব্দে ঠাঁসা এই রেডিমেড নিউজ থেকে নিউজ তৈরি করার ক্ষেত্রে কতই না মজার ঘটনা ঘটে। সভায় রিপোর্টার নিজে উপস্থিত না থেকেও নিউজ করতে পারেন, অনেক মহাজনবাক্য কোনো বক্তার মুখ দিয়ে বলানো যায়, যদিও তিনি তা বলেননি, এমনকি অনেক সময় দেখা গেছে, সভাপতি কিংবা প্রধান অতিথির বক্তব্য রেডিমেড প্রেস রিলিজে আছে অথচ বাস্তবে, অনিবার্য কারণে তিনি বা তেনারা সেই সভায় দৈহিকভাবে উপস্থিতই হতে

পারেননি। এ পথ ও পন্থা অনেকেরই অপছন্দ। কারণ এটি পেশাদারত্বের পরিপন্থি। যা হোক হরিণা সুন্দর মিয়ার পক্ষে লিখিত বিবৃতি পাঠ শুরু করলেন বেশ মোহনীয় কোমল স্বরে- ‘আমাদের এই প্রাণপ্রিয় আবাসভূমি বা বিচরণ ক্ষেত্র জোয়ার-ভাটাবিধৌত দুনিয়ার বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বা গরান বনভূমি। নানা ধরনের গাছপালার চমৎকার সমারোহ ও বিন্যাস এবং বন্যপ্রাণীর অনন্য সমাবেশে আমাদের এ আঙিনা চিহ্নিত হয়েছে এক অপরূপ প্রাকৃতিক নিদর্শন হিসেবে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবেও এটি বিবেচিত; এখান থেকে সংগৃহীত হয় নানা কাজে ব্যবহার উপযোগী বনবৃক্ষ, আহরিত হয় প্রচুর মধু, মোম ও মাছ এবং সেই সূত্রে বা উপলক্ষে কয়েক লাখ মানুষের হয় কর্মসংস্থান। পরস্পর সংযুক্ত প্রায় ৪০০ নদী-নালা, খালসহ প্রায় ২০০টি ছোট-বড় দ্বীপে ছড়িয়ে আছে আমাদের এই বিচরণ ক্ষেত্র।

আজ আমরা যেখানে বাস করি আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে এর মূল আয়তন ছিল প্রায় ১৬,৭০০ বর্গকিমি। বর্তমানে সংকুচিত হয়ে এর আয়তন প্রায় এক তৃতীয়াংশে পৌঁছিয়েছে। ১৯৪৭ দেশ ভাগের সময় এর দুই-তৃতীয়াংশ পড়েছে এধারে, বাকিটা ওধারে, ভারতে।

আমাদের অংশে বনভূমির বর্তমান আয়তন হবে প্রায় ৪,১১০ বর্গকিমি, এর প্রায় ১,৭০০ বর্গকিমি জলাভূমি। ১৮৭৫ সালে প্রথম আমাদের এই আবাসভূমিকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বনভৃমির প্রায় ৩২,৪০০ হেক্টর এলাকাকে আমাদের অভয়ারণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৯৯৯ সাল এই বনকে UNESCO World Heritage হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আদেশ (সংশোধন), ১৯৭৪-এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৭ সালে সুন্দরবনের অভয়ারণ্যগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়। পশ্চিম (৯,০৬৯ হেক্টর), দক্ষিণ (১৭,৮৭৮ হেক্টর) এবং পূর্ব (৫,৪৩ হেক্টর) এই তিন এলাকায় এটি বিভক্ত।

এখানে আমরা নানা ধরনের প্রাণী, সবাই মিলেমিশে বাস করি। বংশ, প্রতিপত্তি আর ক্ষমতার নিরিখে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলেন রয়েল বেঙ্গল টাইগার। অধিকন্তু এখানে আছে প্রায় ৫০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩২০ প্রজাতির আবাসিক ও পরিযায়ী পাখি, প্রায় ৫০ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর এবং প্রায় ৪০০ প্রজাতির মাছ। আপনারা জেনে আশ্চর্য হবেন, ১৯৪৭ সালে দেশ ও বন ভাগাভাগির সময় সুন্দরবনের এক তৃতীয়াংশ অংশে (পশিচম বঙ্গে) রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ছিল ৩৩০-এর মতো, আর ওই সময় দুই তৃতীয়াংশে (বর্তমানে বাংলাদেশ) বাঘ ছিল ৯০০-এর ওপরে। আমাদের বাঘের ওজন কমে যাচ্ছে। সাইজে ছোট হওয়া শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন।

সাম্প্রতিককালে বাঘের আক্রমণের শিকার মানুষদের এবং মানুষদের হাতে বাঘের মৃত্যুর তথ্যউপাত্ত লোকালয়েরই বিভিন্ন দৈনিকে সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত নিউজ সরাসরি তুলে ধরে হরিণা বাবাহকুর পক্ষে বলেন, ‘আমরা অন্তরিকভাবে দুঃখিত এই সব অতর্কিত আক্রমণ ও মৃত্যুর জন্য। তবে লক্ষণীয় যে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আক্রমণগুলো হয়েছে আমাদের নিজস্ব বিচরণক্ষেত্রে আচমকা এবং আমাদের নিজস্ব সময়ে পড়ন্ত বেলায় কিংবা গভীর রাতে। যারা

যে কাজে যে এলাকায় যে সময়ের জন্য অনুমতি নিয়ে এসেছেন ঘটনাগুলো সে সময়ে সে এলাকায় সে কাজের কালে ঘটেনি। যা হোক আমরা প্রত্যেকটি ঘটনায় অভ্যন্তরীণভাবে সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের সব তদন্তের রিপোর্ট যথাসময়ে শেষ করা হয়, দাখিল হয় এবং সে ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণও করা হয়।…

এই পর্যায়ে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সুন্দর মিয়া বললেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ্যির বিষয় যে আমাদের সাথে লোকালয়ের ছোট পীরদের মধ্যি দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা চলতেছে, আমরা ভুল বোঝাবুঝির শিকার হচ্ছি বলে মনে হচ্ছে, এটা আমাগো কারুরই কাম্য না কিন্তু। আমাগো মধ্যি মনোমালিন্য সৃষ্টি হলি আমরা উভয়পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি। এই বন এবং এর পাশের লোকালয় সবই আমাদের। আমরা একে অন্যের। আমরা বনে বাস করি বলে স্রেফ নিজেদের স্বার্থে পাহারা দেইনে, আমরা পাহারা দেই বলেই লোকালয়ের বিস্তর মানুষের কর্মসংস্থান হয় এখানে, আমরা কেন পরস্পরের আক্রমণের শিকার হব?’

বিশেষজ্ঞ (বিশেষভাবে অজ্ঞ?)-জনদের মতো মাথাভারী ধারণায় হরিণাও বিবৃতিতে উল্লেখ করলেন, ‘জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করায় সুন্দরবনের বাঘের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া ও বাঘে বাঘে সংঘর্ষের কারণে নিজের এলাকা বা সীমানা (টেরিটরি) এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়ে প্রায় প্রতিবছর একাধিক বাঘ বন সংলগ্ন গ্রামগুলোতে এসে মানুষের হাতে মারা পড়ছে। গত ১২ বছরে

১৭টি বাঘ এভাবে মারা গেছে। সুন্দরবনে দুটি বড় ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলা আঘাত হেনেছে। এর ফলে বনের ভেতরে বাঘের সীমানা এলাকা (টেরিটরি) নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে বাঘে বাঘে সংঘর্ষের জের হিসেবে পরাজিত বাঘ মানববসতি এলাকায় চলে আসতে পারে। সুন্দরবন এলাকায় লবণাক্ত পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়েছে। বাঘ মিঠা পানি খেতে পছন্দ করে, তারা খাবার ও মিঠাপানির জন্য আসছে।’

লেখক: সরকারের সাবেক সচিব এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান; বর্তমানে চেয়ারম্যান, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)
mazid.muhammad@gmail.com

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর