
মো. জাহাঙ্গীর আলম শায়েস্তানগরী, সেনবাগ :
সেনবাগে দীর্ঘ ৪৮ বছর পর খাল খনন কর্মসূচি শুরু হলেও অবৈধ দখল ও প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে খনন কাজ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবিলম্বে নকশা অনুযায়ী খাল খনন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। বুধবার সরেজমিনে খাল খনন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ফেনী-নোয়াখালী সড়কসংলগ্ন বদু গাজী খালের শায়েস্তানগর অংশে খনন কাজে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হয়েছে। চৌমুহনী অটো রাইস মিল নামের একটি চালকলের ছাঁই ফেলে খালের অংশ বিশেষ ভরাট করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি সরু ও অপরিকল্পিত কালভার্ট নির্মাণের কারণে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
খনন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মোঃ পারভেজ অভিযোগ করে জানান, রাইস মিলের ছাঁইয়ের কারণে খনন কাজে বিঘ্ন ঘটছে। এসকেভেটর মেশিন দিয়ে খনন শুরু করলেও ছাঁইয়ের স্তর কাটতে গিয়ে মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। উপরিভাগে তুলতে গেলে ছাঁই আবার পানিতে মিশে গিয়ে কাজ ব্যাহত করছে।
এ বিষয়ে খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাহার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বন্যায় এ অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খালে ময়লা-আবর্জনা, রাইস মিলের ছাঁই এবং অবৈধ স্থাপনার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি জাফর উল্লাহ খান জানান, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে বদু গাজী খালের খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর খনন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তারেক রহমান এ কর্মসূচি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ এপ্রিল নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক পুনরায় খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অবৈধ স্থাপনা ও অপরিকল্পিত কালভার্ট উচ্ছেদ করে নকশা অনুযায়ী খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে আবারও জলাবদ্ধতা ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :