
স্টাফ রিপোর্টার : দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে বেহাল সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে ট্রলারে মৃত সন্তান প্রসব করেছেন এক প্রসূতি। সোমবার (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেঘনা নদীতে চলন্ত ট্রলারে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত সন্তান প্রসবকারী ফাতেমা আক্তার হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জেলে কলোনি এলাকার বাসিন্দা। তিনি মিলাদ উদ্দিন মাঝির স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রসববেদনা শুরু হলে ফাতেমা আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। তবে নিঝুমদ্বীপের বেহাল সড়ক ও যানবাহন সংকটের কারণে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয়নি। পরে তাকে ট্রলারে করে নদীপথে হাতিয়ার উদ্দেশে নেয়া হয়। পথে মেঘনা নদীর মাঝামাঝি অবস্থানে তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্বীপাঞ্চলের মানুষ বলছেন, জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নিঝুমদ্বীপের সড়ক ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
নিহত নবজাতকের বাবা মিলাদ উদ্দিন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় আমার স্ত্রীর প্রসববেদনা শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের এলাকার সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে কোনো যানবাহন সহজে চলাচল করতে পারে না। পরে বাধ্য হয়ে ট্রলারে করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে রওনা হই। কিন্তু মেঘনা নদীর মাঝপথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমার স্ত্রী মৃত সন্তান প্রসব করেন। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কেফায়েত হোসেন জানান, প্রসববেদনা ওঠার পর ফাতেমা আক্তারকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে সময়মতো যানবাহন পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে ট্রলারে করে নেয়ার সময় নদীর মাঝপথে তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী আক্তার জানান, নিঝুমদ্বীপের বিভিন্ন সড়কের দুরবস্থার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফাতেমা আক্তারের মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও স্বাস্থ্যসেবায় সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :