
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরশাসক জিয়া। জাতীয় চার নেতা ,কর্ণেল তাহের বীর উত্তম সহ শত সহস্র খুনের নায়ক । দ্বিতীয় স্বৈরশাসক এরশাদ। নূর হোসেন, চুন্নু, কনক, দীপালি সাহা ,রাউফুন বসুনিয়া। ডাক্তার মিলন অসংখ্য খুনের হোতা। তৃতীয় স্বৈরশাসক খালেদা জিয়া। সারের জন্য কৃষক হত্যা ,শফিপুরে বিডিআর দিয়ে আনসার হত্যা ১৯৯১-১৯৯৬মেয়াদে। সর্বশেষ ২০০১-২০০৬ সালে বিচার বহির্ভূত অসংখ্য মানুষ হত্যা ,অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে বিনা বিচারে শত শত নাগরিক হত্যা। চতুর্থ স্বৈরশাসক বা কর্তৃত্ত্ব বাদী শাসক শেখ হাসিনা। ২০১৮-২০২৪ সময়কালে বেশি স্বৈরাচারী হয়ে ওঠেন। সমকাল দিয়ে ইতিহাস হয়না। এই জাতি রাষ্ট্রের উদ্ভবের পরিসর তথা মহান মুক্তিযুদ্ধে যে গণহত্যা সংগঠিত হয়েছিলো ,তাকে আড়াল করার বিনাশী চেতনা থেকে মুক্ত হতে হবে। পত্রিকার মাধ্যমে জানলাম গণভবনকে গণহত্যা জাদুঘর বানানো হবে।
গত ষোল বছরের নিপীড়নের চিত্র থাকবে গণভবনে।ঐতিহাসিক সত্য স্বাধীন বাংলাদেশে চার বার স্বৈরশাসক এরউদ্ভব ও পতন হয়েছে। কিন্তু কখনো কেউ মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার, ইতিহাস চেতনা ও আকাঙ্খার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। বর্তমানে যাঁরা দেশের শাসন ও কর্তৃত্ব গ্রহণ করেছেন তাঁদের মুখের ভাষা আর কাজের ধরণ আলাদা। তাঁরা ইতোমধ্যে স্বাধীন জাতি রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতের দিন ১৫ আগস্ট এর ছুটি বাতিল করে তাদের ইতিহাস চেতনার দৈনতা প্রকাশ করেছেন। সাউথ আফ্রিকার বিশ্ব বরেণ্য নেতা নেলসন মেন্ডেলার চিন্তার আদলে” ট্রুথ এন্ড রিকন্সিলিয়েশন কমিশন” গঠন করে বিগত সকল স্বৈরশাসক এর ও তাদের সুবিধা ভোগীদের বিচারের আওতায় এনে “সত্যের বিনিময়ে ক্ষমা “উদ্যোগ নিতে হবে। এবং এর মাধ্যমে একটি সর্বজনীন, ,কল্যানমুলুক, বহুমুখি অংশীদারিত্বের সমাজ -রাষ্ট্র নির্মাণে ব্রতী হতে হবে। প্রতি হিংসা ,জবরদস্তি ,ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতা ,সামন্তচেতনা এসব বাদ দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অভিমুখি বৈষম্যমুক্ত একটি কল্যাণ মুলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এক হতে হবে। তা না হলে জিয়া ,এরশাদ ,খালেদা ও হাসিনার পতন হলেও কার্যত :স্বৈরশাসনের পতন হবে না। নিকট ইতিহাসতো সেকথাই বলে। নির্মম ও নিষ্ঠুর সত্য! শোক পালনেও বাধা দেয়া হয়েছে।
(প্রত্যয় জসীম ,কবি ও সব্যসাচী লেখক গণ বুদ্ধিজীবি)
আপনার মতামত লিখুন :