
ইসরায়েল পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল দখলে নিয়ে নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সমস্যা নেই বলে মন্তব্য করেছেন তেল আবিবে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তার এমন মন্তব্যে যৌথভাবে নিন্দা জানিয়েছে আরব ও ইসলামিক দেশগুলো।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) টাকার কার্লসনের পডকাস্টে এক প্রশ্নের জবাবে হাকাবি এ কথা বলেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান
প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্লসন হাকাবিকে বাইবেলের একটি আয়াতের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন করেন, যে আয়াতে ইসরায়েলকে মিসরের নীলনদ থেকে সিরিয়া ও ইরাকের ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত ভূমির অধিকারী বলে ইঙ্গিত করা হয়।
এর জবাবে হাকাবি বলেন, ‘তারা যদি সবটাই নিয়ে নেয়, তাতেও সমস্যা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল সবকিছু নেওয়ার দাবি করছে না। এটি কিছুটা অতিরঞ্জিত বক্তব্য ছিল।’
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্য ‘বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক’ বলে নিন্দা জানায় এক ডজনেরও বেশি আরব ও ইসলামিক সরকার—এবং তিনটি প্রধান আঞ্চলিক সংস্থা।
রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, লেবানন, সিরিয়া এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র।
এছাড়া ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা, আরব লীগ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ ও এতে স্বাক্ষর করে।
তারা জানায়, এসব মন্তব্য জাতিসংঘ সনদ এবং গাজা যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমন ও একটি সমন্বিত রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টার পরিপন্থী।
এর আগে কয়েকটি আরব দেশ পৃথকভাবে নিন্দা জানিয়েছিল।
সৌদি আরব হাকাবির বক্তব্যকে ‘বেপরোয়া’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দেয়, আর জর্ডান একে ‘অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত’ বলে উল্লেখ করে।
কুয়েত একে ‘আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালার প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানায়, আর ওমান বলে এসব মন্তব্য ‘অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।’
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করে, ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বা অন্য কোনো আরব ভূমির ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।’
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানায়, হাকাবির বক্তব্য ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (ইসরায়েলের) পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণের বিরোধিতার অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
শনিবার হাকাবি এক্সে দুটি পোস্ট দিয়ে সাক্ষাৎকারে উত্থাপিত অন্যান্য বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন, তবে বাইবেলীয় আয়াত সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে কিছু বলেননি।
ইসরায়েলের পার্লামেন্টের স্পিকার আমির ওহানা এক্সে হাকাবির সামগ্রিক প্রো-ইসরায়েল অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং কার্লসনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচার ও অপপ্রচার’-এর অভিযোগ তোলেন।
আপনার মতামত লিখুন :